জুরিচে গুগল সেন্টার। প্রতীকী ছবি: মানি কন্ট্রোলের সৌজন্যে

সাড়ে তিন হাজারের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেন টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক। ১১ হাজার কর্মীকে ফেসবুক থেকে ছেঁটে ফেলেছেন মার্ক জুকারবার্গ। এরমধ্যেই খবর আসে বড়ো সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে আমাজনও। সেই খবরের রেশ মিলতে না মিলতেও আরও এক ধাক্কা। ১০ কর্মীকে বিদায় জানাতে পারে গুগল।

টেক নিউজ পোর্টাল দ্য ইনফরমেশনের মতে, আর্থিক পরিস্থিতির নিরিখেই বিশাল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করতে পারে গুগল। প্রায় ১০ হাজার জন কর্মীকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনা চলছে। বিশেষত, যে সব কর্মীর পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়ে কম, তাঁদের উপরই কোপ পড়তে চলেছে।

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র উদ্ধৃত করে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, টিম ম্যানেজারদের একটি নতুন “র‍্যাঙ্কিং এবং পারফরম্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান”-এ কর্মীদের মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই, ২০২৩ সালের প্রথম দিকে ‘শুদ্ধিকরণ’ শুরু হতে পারে।

তবে, গুগল বা আলফাবেট এখনও পর্যন্ত কোনো ছাঁটাই পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি। তবে সিইও সুন্দর পিচাই মাস দুয়েক আগে এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একটি সংস্থা হিসাবে গুগল বিশ্বাস করে যে “আপনার কাছে যদি আগের তুলনায় কম সংস্থান থাকে, তা হলে কাজ করার জন্য সমস্ত সঠিক জিনিসগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার কর্মীরা প্রকৃতঅর্থে উৎপাদনশীল হয়…”।

জোম্যাটোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছাঁটাই

গত ১৯ নভেম্বর জানা যায়, গত দু’সপ্তাহ ধরে এই কর্মী ছাঁটাইয়ের কাজ চলছে জোম্যাটোতে। এ দিন সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীরা কতটা দক্ষ, তা নিয়মিত ভাবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রায় ৩ শতাংশ কর্মীকে তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছাঁটাই করা হয়েছে।’’

সম্প্রতি সংস্থার বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্তা চাকরি ছেড়েছেন। গত শুক্রবার জোমাটোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহিত গুপ্ত পদত্যাগ করেন। তিনি প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২০ সালে তিনি ‘কো-ফাউন্ডারে’র পদ লাভ করেন। এছাড়াও জোমাটোর নতুন উদ্যোগের কর্তা রাহুল গানজু-ও পদত্যাগ করেছেন। ইন্টারসিটি লেজেন্ডস-এর প্রধান সিদ্ধার্থ ঝাওয়ারও চলতি মাসের শুরুতে চাকরি ছেড়েছেন।

এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে কর্মীছাঁটাই করেছিল জ়োম্যাটো। গুরুগ্রামের এই অ্যাপ-নির্ভর সংস্থাটিতে সে সময় ৩,৮০০ জন কাজ করতেন। তবে অতিমারির আবহে মুনাফায় ঘাটতি হওয়ায় সংস্থার ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ৫২০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছিল।

আমাজন ছাঁটতে পারে ১০ হাজার

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে আমাজন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ চাকরি করেন সংস্থায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি সত্যিই ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়, সংস্থার ইতিহাসে এটাই হবে সবচেয়ে বড়ো কর্মী ছাঁটাই।

পাশাপাশি, সংস্থার মুখপাত্র কেলি নান্টেল বলেছেন, বার্ষিক অপারেটিং পরিকল্পনা পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে, নির্দিষ্ট ভূমিকার আর প্রয়োজন নেই। তা থেকেই অনুমান, এই গণছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শুরুতেই কোপ পড়তে পারে ‘অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট’-এর মতো ডিভাইস- ভিত্তিক বিভাগগুলিতে।

মেটা এবং টুইটারে কর্মী ছাঁটাই

গত সপ্তাহে ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটাও বিশাল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রায় ১১ হাজার জনকে ছাঁটাই করেছে তারা, যা সংস্থার মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ। সংস্থার ইতিহাসে এই প্রথম বার এই বিশাল সংখ্যক কর্মীকে বরখাস্ত করা হল। রাজস্ব হ্রাস এবং প্রতিকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে, মার্ক জুকারবার্গ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ দিকে, টুইটার প্রধান ইলন মাস্কও সংস্থা থেকে ৩ হাজার ৭০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। মোট কর্মীর অর্ধেককে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে সংস্থা বলেছে, “আয়ের নতুন উৎস খুঁজে বের করতে হবে। নইলে আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে পারবে না টুইটার।”

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন