আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় সামলাতে অর্থ সাহায্যপ্রার্থী রাষ্ট্রপুঞ্জ, সদর্থক সাড়া দিল ভারত

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: তালিবান শাসনে আফগানিস্তানের মানবাধিকার ভয়ানক ভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে জানিয়ে বারবার সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। দেশে এই মানবিক বিপর্যয় সামলাতে অন্তত ৬০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে গোটা বিশ্বের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই ডাকে সদর্থক সাড়া দিয়েছে ভারত।

রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, আফগানিস্তান তালিবানের দখলে যাওয়ার আগে থেকেই দেশটির অর্ধেক জনসংখ্যা, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ অন্যান্য দেশ থেকে আসা অর্থসাহায্যের উপরে নির্ভরশীল ছিলেন। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এর অন্যতম কারণ দু’টি— খরা ও অর্থাভাব।

আফগানিস্তানের নয়া তালিবান সরকারকে মান্যতা দেয়নি বহু দেশই। ফলে যে মোটা অঙ্কের অর্থসাহায্য আসত বিভিন্ন দেশ থেকে, তা বন্ধ হওয়ার মুখে। রাষ্ট্রপুঞ্জও বিপাকে। তালিবান অভ্যুত্থানে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন প্রকল্প বিপর্যস্ত। এ দিকে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি জানিয়েছে, যে ৬০ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার অর্থসাহায্য চাওয়া হচ্ছে তার এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা হবে রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’ (ডব্লিউএফপি)-এ। এই প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ: অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যে ১৬০০ আফগানকে নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছিল, তাঁদের ৯৩% খাদ্যাভাবে রয়েছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ, অর্থাভাব।

Shyamsundar

সাহায্য করবে ভারত

রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাকে সাড়া দিয়ে ভারত জানিয়েছে তারা এই আর্থিক সাহায্য করতে প্রস্তুত। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বৈঠক অত্যন্ত জরুরি ছিল। ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব বজায় থাকবে।

ডব্লিউএফপি (World Food Programme)-এর অংশ হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে প্রোটিন বিস্কুট পাঠায় ভারত। গত বছর ৭৫ হাজার মেট্রিক টন গম পাঠানো হয়েছিল। অন্তত ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে আফগানিস্তানে। অতীতের মতোই এখনও আফগানদের পাশে থাকতে চায় ভারত।

ডব্লিউএফপি-র উপ-আঞ্চলিক প্রধান আন্থিয়া ওয়েব বলেন, ‘‘এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই। আফগানিস্তানের বাসিন্দাদের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে। মজুত খাদ্য যাতে কোনও ভাবে ফুরিয়ে না যায়, তার জন্য আমরা কার্যত ভিক্ষা চাইছি।’’

তালিবানকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায় রাষ্ট্রপুঞ্জ

এ দিকে, গুতেরেস বলেছেন, এই মুহূর্তে তালিবানকে সঙ্গে না নিলে আফগানিস্তানের মানুষকে সাহায্য করার কাজ এগোতে পারবে না। কাবুলের আর্থিক পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার আগে অন্য দেশগুলির সাহায্য চেয়েছেন তিনি। আর্থিক বিপর্যয়ের আফগানিস্তানকে কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তার পথ বিশ্বকে খুঁজে দেখতে হবে বলেই মনে করছেন মহাসচিব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও জানিয়েছে, অর্থের অভাবে আফগানিস্তানের কয়েকশো হু-পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মুখে।

আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামলাতে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে চিনও। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে তারা। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান আজ বলেন, ‘‘তালিবানেরও উচিত নিজেদের প্রতিজ্ঞার কথা মনে রাখা এবং যাবতীয় সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম থেকে নিজেদের মুক্ত করা।”

উল্লেখযোগ্য আরও এই খবরগুলি পড়তে পারেন

ভয়াল ভাঙনের মুখে মালদহ, নতুন বাড়ি খুঁজছেন প্রাক্তন বিধায়ক

২৫ হাজারে নেমে গেল দৈনিক সংক্রমণ, সক্রিয় রোগী কমল আরও ১২ হাজার

সোমবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়, সকাল থেকে শুরু কলকাতায়

বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনার তদন্তে এনআইএ

চলতি সপ্তাহেই কোভ্যাক্সিনকে অনুমোদন দিতে পারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন