ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘কৃষক বিক্ষোভ’ ও ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা, হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে ভারতের কড়া প্রতিবাদ

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতে ‘কৃষকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ’ এবং ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে বিতর্ক হয়েছে তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নরেন্দ্র মোদী সরকার। নয়াদিল্লিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে এ ব্যাপারে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে ভারতের তরফে। বলা হয়েছে এটা ‘স্পষ্ট নাক গলানো’ ও ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির’ নজির। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এ কথা জানিয়েছে।

একশো দিনেরও বেশি সময় ধরে দেশে কৃষকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিয়ে এই প্রথম অন্য রাষ্ট্রের সরকার সরকারি ভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৯০ মিনিট ধরে ওই আলোচনা হয়। তাতে লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির বেশ কিছু এমপি যোগ দেন। ওই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ভারতের সরকার যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলোচনায় যোগদানকারীরা।

এ ব্যাপারে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, দু’ দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন তখন ভারতের কাছে ওই উদ্বেগ প্রকাশ করা হবে।

ব্রিটিশ দূতকে ভারত কী বলল

নয়াদিল্লি মঙ্গলবার জানায়, ভারতের বিদেশ সচিব ব্রিটিশ দূত আলেকজান্ডার এলিসকে ডেকে পাঠান এবং “ভারতের কৃষি সংস্কার নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে অনধিকার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আলোচনা হয়েছে” তার কড়া বিরোধিতা করা হয়।

বিদেশ সচিব পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এর ফলে আরেকটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিতে মারাত্মক ভাবে নাক গলানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিদেশ সচিব ব্রিটিশ এমপিদের উপদেশ দিয়েছেন, যেন আরেকটি গণতান্ত্রিক দেশ সম্পর্কে তথ্য বিকৃতি করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি না করা হয়।”

ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিবাদ

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই বিতর্ক নিয়ে লন্ডনে ভারতের হাই কমিশন সোমবারই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। হাই কমিশনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “একটা ভারসাম্যযুক্ত বিতর্কের পরিবর্তে যাচাই না করেই বা তথ্য না পেশ করেই মিথ্যা দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিয়াশীল গণতন্ত্র ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুৎসা করা হয়েছে। গোটা ব্যাপারটায় আমরা গভীর মর্মাহত।”

হাই কমিশন আরও বলেছে, “ব্রিটিশ মিডিয়া-সহ বিদেশি মিডিয়া ভারতে উপস্থিত রয়েছে এবং যে ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা তারা নিজেদের চোখে দেখেছে। এ ক্ষেত্রে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনা

সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৯০ মিনিট ধরে ভারতে ‘কৃষকদের নিরাপত্তা’ ও ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা গুর্চ সিং যে আবেদন করেছিলেন তার ভিত্তিতেই এই আলোচনা হয়। এক লক্ষেরও বেশি ব্রিটেনবাসী ওই আবেদনে সই করেন।

আলোচনার সূত্রপাত করে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির মার্টিন ডে বলেন, “ব্রিটিশ সরকার আগেই বলেছে, কৃষি সংস্কার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই সংস্কার নিয়ে আমরা এখন কোনো আলোচনা করছি না। আমরা প্রতিবাদীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছি। জলকামান আর কাঁদানে গ্যাস, পুলিশ ও কৃষকদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ এবং ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাহত করা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়। বেশ কিছু কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।”

বেশ কিছু বিরোধী এমপি ভারতে কৃষকদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে এশিয়া সংক্রান্ত বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী নাইজেল অ্যাডাম্‌স বলেন, ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের “ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উদ্বেগ প্রকাশ করা থেকে রাষ্ট্রকে বিরত করতে পারে না।”  

আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ ‘মৈত্রী সেতু’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী    

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন