ওয়াশিংটন: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। দুই দেশ বিশেষ ভাবে নিজেদের সামরিক বাহিনীর কার্যক্ষমতার বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থির গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে দাবি পেন্টাগনের।

বিদেশমন্ত্রকের (MEA) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বের মধ্যে একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় দুই দেশ এখন একে অন্যের সঙ্গে অনেক বেশি দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়া চালায়।

কোন দিকে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক?

পেন্টাগনের মুখপাত্র এয়ার ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট রাইডার বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে এবং তা এগিয়ে নিয়ে যেতে উন্মুখ আমরা। বিশেষ করে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আন্ত:কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির উপর দৃষ্টি নিবন্ধ করছি। ফলে, আমরা যে সঠিক দিকেই এগোচ্ছে, সেটাই মনে করি”।

বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ভারতকে নিজের “প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একে অন্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার সুবিধা এবং প্রতিরক্ষা-সহ অন্যান্য শিল্পে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় দুই দেশ।

যৌথ ভাবে ড্রোন তৈরি করবে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক দিন আগেই পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, লক্ষ্য চিনের মোকাবিলা। পন্থা হিসাবে দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় ওয়াশিংটন। ওই আধিকারিক আরও জানান, ভারত শুধু ওই ড্রোনগুলি তৈরি-ই করবে না, পাশাপাশি নিজের অঞ্চলের অন্যান্য দেশে তা রফতানিও করবে।

নিজের অস্ত্রসম্ভারে বৈচিত্র আনতে চায় ভারত। মূলত রাশিয়ার তৈরি অস্ত্রেই এত দিন নির্ভর করে এসেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি ক্রমশ বদলাচ্ছে। এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব এলি র‍্যাটনার সাংবাদিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে বলেন, “আমরা উভয় দিক থেকে ভারতকে সমর্থন করতে চাই। এবং সেটা করছিও। অর্থাৎ, এক দিকে যেমন আমরা ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন করতে চলেছি এবং তেমনই উন্নয়নেও মনোনিবেশ থাকছে। এতে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ লক্ষ্যগুলি সহজ হবে”।

ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিনের বেশ কিছু পদক্ষেপ সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌজন্যে এখন অনেক কাছাকাছি দুই দেশ।

বলে রাখা ভালো, ২০১৬ সালে ভারতকে একটি “প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার” হিসাবে মনোনীত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার পর হয়েছে চুক্তি। ওই চুক্তির মাধ্যমে টপ-গ্রেডের অস্ত্র লেনদেন সহজ করার মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীরতর করেছে দুই দেশ।

খবর অনলাইন-এ আরও পড়ুন:

৮২.৩৩ টাকা! মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন ভারতীয় রুপি

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন