syria

দামাস্কাস: বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অঞ্চলে বোমাবর্ষণ থামানোর জন্য সিরিয়ার ওপরে ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। বুধবার নতুন করে বোমাবর্ষণের ফলে ওই অঞ্চলে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন শিশুও রয়েছে। সব মিলিয়ে পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩২০।

রবিবার থেকে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করে চলেছে সিরিয়া। এর ফলে হতাহতের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে সমস্ত পরিকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতালও। গোটা পরিস্থিতিকে ‘পৃথিবীর মধ্যে নরক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান আন্তনিও গুয়েতেরেস।

অবিলম্বে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যাপারে ফ্রান্সের সুরে সুর মিলিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তিরিশ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার জন্য সিরিয়ার ওপরে চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হবে। ভোটাভুটির এই প্রস্তাব এনেছে সুইডেন এবং কুয়েত।

সিরিয়ার এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গুয়েরেস বলেন, “পূর্ব ঘৌটার মানুষের দুর্দশা চোখে দেখা যায় না।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁকর। সিরিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, “বর্বরোচিত হামলার হাত থেকে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জকে কিছু ব্যবস্থা নিতেই হবে।”

এ দিকে সিরিয়ার সঙ্গী দেশ রাশিয়া গোটা ঘটনায় সিরিয়ার পাশে দাঁড়ালেও, এই হামলায় নিজেদের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়ার দূত ভ্যাসলি নেবেঞ্জিয়া বলেন, “সিরীয় সেনা জঙ্গি ডেরায় বোমাবর্ষণ করছে।”

এ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবার স্বার্থে দুর্গত অঞ্চলে তাদের যেতে দেওয়া হোক, সিরিয়ার কাছে এই দাবি করেছিল রেড ক্রস। কিন্তু সিরিয়া সেই দাবি না মানায় রাষ্ট্রপুঞ্জের দারস্থ হয় তারা। রেড ক্রসের সিরিয়া শাখার প্রধান মারিয়েন গাসের বলেন, “পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারছি আগামী কয়েক সপ্তাহে সেখানে দুর্গতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়বে। আমরা ওই অঞ্চলে না যেতে পারলে মানুষদের বাঁচানো যাবে না।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন