তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন অনুসারে নারীদের অধিকার বলতে কী বোঝায়?

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: তালিবান বলেছে, শরিয়া আইন অনুসারে আফগানিস্তানে মেয়েরা তাদের অধিকার ভোগ করবে। তারা বলেছে, মেয়েরা কাজ করবে, তবে শরিয়া আইন মেনে

শরিয়া হল ইসলামিক আইনি ব্যবস্থা। তালিবান নিজেদের মতো করে শরিয়া আইনের ব্যাখ্যা করে। তালিবান শাসনে শরিয়া আইন অনুসারে মেয়েদের অধিকার ভোগ করার চেহারাটা কেমন হতে পারে তা এক বার দেখে নেওয়া যাক –

মেয়েরা কি বাজারে যেতে পারবে?

তারা বাজারে যেতে পারবে। তালিবানের আগের শাসনে এ ব্যাপারে একটা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তা হল, তারা বাজারে যেতে পারবে তবে যখন বাইরে বেরোবে তার সঙ্গে এক জন পুরুষকে (প্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক, যা-ই হোক না কেন) থাকতে হবে।

মেয়েরা কি বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যেতে পারবে?

আগের শাসনে মেয়েদের কার্যত ঘরবন্দি থাকত। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যেতে পারত না।

পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েরা কি দেখা করতে পারে?

পরিবারের সদস্য নয় ১২ বছরের ঊর্ধ্বে এমন কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে পারে না মেয়েরা।

মেয়েদের কি শিক্ষার অধিকার আছে?

মেয়েদের শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে নাবালকরা ও পুরুষরা যেখানে পড়াশোনা করতে পারে সেই স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় পড়ার অধিকার নেই মেয়েদের।

মেয়েরা কি মেক-আপ করতে পারে?

আগের শাসনে তালিবান মেয়েদের মেক-আপ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এমনকি তারা নেলপালিশও ব্যবহার করতে পারত না।

মেয়েরা কি গান গাইতে পারে, নাচতে পারে?

শরিয়া আইন অনুসারে সংগীত নিষিদ্ধ। আগের শাসনে পার্টিতে যারা গান গেয়েছে বা গানের তালে তালে নেচেছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

মেয়েরা কি অফিসে কাজ করতে পারে?

তালিবান বলেছে, মেয়েদের কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে পাওয়া রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্ক ও সরকারি অফিসের মহিলা কর্মীদের তালিবান এসকর্ট করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, তাদের জায়গায় তাদের পুরুষ আত্মীয়রা কাজ করতে পারেন।

বোরখা পরতে কি বাধ্য মেয়েরা?

হ্যাঁ। শরিয়া আইন অনুসারে সৌন্দর্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তালিবান ঠিক করে দিয়েছে, পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যের সঙ্গে থাকলে কিংবা বাইরের কোনো পুরুষের সঙ্গে বাড়িতে আলাপ করলে ৮ বছর বয়সের বেশি যে কোনো মেয়েকে বোরখা পরতেই হবে।

মেয়েরা কী ভাবে কথা বলবে?

আগের তালিবান শাসন ঠিক করে দিয়েছিল, মেয়েদের কোনো সমাবেশে বা জনসমক্ষে মেয়েরা এমন ভাবে কথা বলবে যাতে বাইরের কেউ শুনতে না পায়।

মেয়েরা কি হাই হিল জুতো পরতে পারে?

হাই হিল জুতো পরা তালিবান শাসনে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা ঠিক করে দিয়েছিল, মেয়েরা এমন ভাবে হাঁটবে যাতে কোনো পুরুষ তাদের পায়ের শব্দ শুনতে না পায়।

মেয়েরা কি ব্যালকনিতে বসতে পারে?

তালিবান শাসনে বাড়ির ব্যালকনিতে মেয়েদের বসা নিষিদ্ধ ছিল।

মেয়েরা কি যে কোনো ধরনের মডেলিং করতে পারে?

তালিবান শাসনে সংবাদপত্র, বই বা পোস্টারে মেয়েদের ছবি প্রদর্শন বা মেয়েদের ফিল্ম তোলা নিষিদ্ধ ছিল।

শরিয়া আইন ভাঙলে মেয়েদের ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে?

শরিয়া আইন ভাঙলে তালিবান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে। আগের শাসনে শরিয়া আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রকাশ্যে জনতাকে দিয়ে হেনস্থা করা হত, বেত মারা হত অথবা পাথর ছুড়ে হত্যা করা হত।

আরও পড়তে পারেন

আফগানিস্তান এত বড়ো যে পাকিস্তান গিলে ফেলতে পারবে না, তালিবানও শাসন করতে পারবে না, বললেন ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ আমরুল্লা সালে

দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রথম ভিডিও পোস্ট করলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘনি

সরকার গঠনের জন্য প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ তালিবানের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন