তেহরান: হিজাব-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সি কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি (Mahsa Amini) নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হচ্ছে ইরানে। নারী-নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে “বিশৃঙ্খলা”র নিন্দা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি (Iran’s President Ebrahim Raisi)।

ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে। যা দমন করতে ইরান সরকার তার দমনপীড়নের মাত্রাও বাড়াচ্ছে ক্রমশ। ইরানের মতো কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞায় ঘেরা দেশের মেয়েদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের অন্যত্রও।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আঙুল কোন দিকে

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রাইসি বলেন, “যারা দাঙ্গায় অংশ নিয়েছিল তাদের অবশ্যই সিদ্ধান্তমূলক ভাবে মোকাবিলা করতে হবে, এটি জনগণের দাবি”। তিনি আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘লাল রেখা’ এবং কাউকে আইন ভঙ্গ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অনুমতি দেওয়া হয় না এখানে”।

ইরানের প্রধান শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিরতার জন্য অভিযুক্ত করে অতি রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট বলেন, “শত্রুরা জাতীয় ঐক্যকে নিশানা করেছে। তারা দেশের মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিতে চায়”।

সাড়ে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো বিক্ষোভ

হিজাব বিরোধী বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা তাদের মাথার স্কার্ফ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন। এ সব বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে শরিয়া আইনের বিপক্ষে এ ধরনের বিক্ষোভ হয়নি। বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৭৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১২০০ জনকে।

তবে সরকারি মতে, নিহতের সংখ্যা ৪১ ও গ্রেফতার হয়েছেন ৭৩৯ জন। ইরান সরকারের দাবি, এই আন্দোলনকে মদত দিচ্ছে ‘কোমলা’ বলে ইরানের একটি বামপন্থী সংগঠন এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠী। ইতিমধ্যেই ইরানের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ থেকে একাধিক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর।

আন্দোলন দমাতে পাল্টা পথ ইরান সরকারের!

অশান্তির জন্য বাইরের শক্তিকে দায়ী করেছে ইরান। যার মধ্যে উত্তর ইরাকে অবস্থিত “প্রতিবিপ্লবী” কুর্দি গোষ্ঠীগুলি রয়েছে। ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বলপ্রয়োগ করেও আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে সরকার বেছে নিয়েছে অন্য পথ। হিজাব-বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে হিজাব-পন্থী আন্দোলনের মুখোমুখি টক্করের জমি তৈরি করছে সে দেশের সরকার। 

এ ধরনের বড়োসড়ো উত্তেজনার মধ্যে, ইরান বুধবার আন্তঃসীমান্ত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ১৩ জনের মৃত্য়ু হয়। সেখানে অবস্থিত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করার পরেই এই হামলা।

আগুন ধিকিধিক জ্বলছিল আগেই

ইরানের নীতি পুলিশ হিজাব সম্পর্কিত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে মাহশা আমিনিকে আটক করেছিল পুলিশ। হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ অতিরিক্ত মারের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ যদিও এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

খবর অনলাইনে আরও পড়ুন

জ্বলছে প্রতিবাদের আগুন, তেহরানে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ, নয়া চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান

তবে আগুন আগে থেকেই ধিকধিক করে জ্বলছিল। মাহশা আমিনির মৃত্যু সেই আগুনকে উস্কে দিয়েছে। বিবিসি বলছে, রাজনীতিকদের দুর্নীতি, মুদ্রাস্ফীতির কারণে দারিদ্র বেড়ে যাওয়া, পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীননতার অভাবে তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করে তুলেছে। ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মতে দেশটির আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে। শুধু তাই নয় এ সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন