গাজায় বহুতলে এয়ার স্ট্রাইক ইজরায়েলের, গুঁড়িয়ে গেল এপি এবং অন্যান্য মিডিয়ার অফিস

খবর অনলাইন ডেস্ক: শনিবার একটি এয়ার স্ট্রাইকে গাজার একটি ১৩তলা বিল্ডিং গুঁড়িয়ে দিল ইজরায়েলি সেনা। ওই বহুতলটিতে কাতার-ভিত্তিক আল-জাজিরা টেলিভিশন এবং গাজা উপত্যকায় মার্কিন সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অফিস ছিল।

এই বহুতলটি যে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তা আগেই জানিয়েছিল ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী। ওই বহুতলের মালিককে এ কথা জানানো হয়। জানা যায়, বহুতলটি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার এক ঘণ্টা বাদেই সেটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ মাধ্যমের অফিস ছাড়াও সেখানে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টও ছিল। এই এয়ার স্ট্রাইকে পুরো বিল্ডিংটিকে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে, কেন এ ভাবে হামলা চালানো হল, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বহুতলটিতে এয়ার স্ট্রাইক চালানোর আগে গাজা শহরের আরও একটি জনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। সেখানে কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি মারা যায়। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

আল জাজিরা টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, এয়ার স্ট্রাইকে ওই বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। ধূলোর কুণ্ডলী চতুর্দিক অন্ধকার করে দেয়। তবে সতর্কবার্তার পর এপি-র কর্মীরা সহ বহুতলের বাসিন্দারা আতঙ্ক বাইরে বেরিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।

জালা টাওয়ার নামে ওই বহুতলের মালিক জাওয়াদ মেহেদি বলেছেন, এক ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। বহুতল থেকে লোকজনকে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য মাত্র এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে মিডিয়া অফিসের মূল্যবান জিনিসপত্র বের করে নেওয়ার জন্য তিনি অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় চেয়েছিলেন। যদিও সেই আর্জি মান্যতা পায়নি।

এ ব্যাপারে গাজায় আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান ওয়াল আল-দাহদৌ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, “আল জাজিরা এবং অন্যান্য প্রেস ব্যুরোর উপর এই হামলা খুব ভয়ঙ্কর এবং অত্যন্ত দুঃখজনক”।

গত সোমবার থেকে গাজায় ইজরায়েলের হামলায় এখনও পর্যন্ত ১৩৯ জনেপ মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে ৩৯টি শিশু। তবে আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

ছবিতে সেই ১৩তলা বিল্ডিং। রয়টার্সের সৌজন্যে

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন