গণভোটে হেরে যাওয়ার পর সোমবারই ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন  ম্যাত্তিও রেঞ্জি। সাংবাদিক বৈঠকে রেঞ্জি বলেন, “ব্যক্তি হিসেবে আমার সরকারে থাকার অভিজ্ঞতা এখানেই শেষ হল”। রবিবারের গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি ইতালিবাসি। ম্যাত্তিও রেঞ্জির বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৯.৫ শতাংশ।  

চেম্বার অফ ডেপুটিজের তুলনায় দ্বিতীয় কক্ষ অর্থাৎ সেনেটের ক্ষমতা এবং সদস্য সংখ্যা কমিয়ে আনতে চেয়েছিলেন রেঞ্জি। গণভোটের মূল বিষয়ও ছিল সেটাই। সেনেট সদস্যদের নির্বাচিত না করে মনোনীত করার পক্ষে ছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মত, রেঞ্জির হার প্রমাণ করছে ‘ফাইভস্টার মুভমেন্ট’-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা জোরালো হচ্ছে ইতালিতে। সারা পৃথিবীর অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউরো অর্থনীতির মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ইতালির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সঙ্কটের মুখে পড়তে হতে পারে।

রেঞ্জির পরাজয়ে শক্তি বৃদ্ধি করবে সে দেশের নর্দান লিগ মুভমেন্টও। যারা শরণার্থী বিরোধী। দেশের মানুষের চাকরি চলে যাওয়া এবং নতুন চাকরি না পাওয়ার সমস্যার হাত ধরে চলতি বছরেই গণভোটে ইউরো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ব্রিটেন। একই ধরনের স্লোগান তুলে ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই একই পথের শরিক হল ইতালিও।     

প্রধানমন্ত্রী জানান মন্ত্রিসভার সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের পরই ইস্তফাপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতি সারজিও ম্যাত্তেরেল্লার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। গণভোট হওয়ার আগেই রেঞ্জি জানিয়েছিলেন ভোটে হেরে গেলে ইস্তফা দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে জল্পনা চলছে বেশকিছু দিন ধরেই। রেঞ্জির প্রশাসনিক দলের পরিবর্তে কার্যনির্বাহী প্রশাসনেরই সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে এই প্রশাসনই। ২০১৮-র নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here