লক্ষ্য আত্মহত্যার হার তিরিশ শতাংশ কমানো, কাজের সময় কমাচ্ছে জাপান

0
422

টোকিও: কাজের চাপে আত্মহত্যা জাপানের একটা বড়ো সমস্যা। বছরে কুড়ি হাজার মানুষ সে দেশে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সেই সমস্যা সমাধানে কাজের সময় কমানোর একটি পরিকল্পনায় অনুমোদন দিল জাপান সরকার। এর ফলে আগামী দশ বছরে আত্মহত্যার হার তিরিশ শতাংশ কমানো যাবে বলে আশা।

গত এপ্রিলে এক জন নির্মাণকর্মীর মৃত্যুর পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে জাপানের প্রশাসন। ওই কর্মী ডিসেম্বরে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজে যোগ দিয়েছিল। এপ্রিলে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় সে মার্চে ২০০ ঘণ্টা অভারটাইম করেছিল। মৃত কর্মীর পরিবার তার মৃত্যুকে ‘কারোশি’ (অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যু) বলে চিহ্নিত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করে।

বিশ্বের সব থেকে উন্নত দেশগুলি নিয়ে গঠিত ‘জি-৭’ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে জাপানেই আত্মহত্যার সংখ্যা সব থেকে বেশি। জাপান সরকারের মতে এটি গভীর একটা সমস্যা। প্রতি বছর জাপানে শত শত ‘কারোশি’র ঘটনা ঘটে। ২০১৬-য় জাপান সরকারের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সে দেশে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে এক জনের অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। ২০১৫-তে জাপানে আত্মহত্যার অনুপাত ছিল প্রতি এক লক্ষ জনে ১৮.৫। সরকারের লক্ষ্য ২০২৫-তে সেই অনুপাতকে তেরোয় নামিয়ে আনা।

২০০৩-এ সব থেকে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল জাপানে। সে বছর ৩৪,৪২৭ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সেই তুলনায় গত বছর আত্মহত্যার ঘটনা কমে হয়েছে ২১,৮৯৭টি। ২০০৩-এর পর আত্মহত্যার সংখ্যা কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ করেছিল জাপান সরকার। তার ‘সুফল’ হিসেবেই এই আত্মহত্যার সংখ্যা কমেছে বলে মত।

জাপানের ক্যাবিনেট বৈঠকে ঠিক হয়েছে আত্মহত্যা রোধে আরও কিছু পদক্ষেপ করবে সরকার। অতিরিক্ত কাজের সময় কমানোর পাশাপাশি ঊর্ধ্বতনের কাছে কর্মীরা যাতে অপমানিত না হন, সে ব্যাপারটিও নিশ্চিত করবে তারা।

সাম্প্রতিক কালে সব থেকে সাড়া ফেলে দেওয়া আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালে। সে দেশের অ্যাডভারটাইজমেনট এজেন্সির কর্মী মাতসুরি টাকাহাসির আত্মহত্যা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিয়মিত ভাবে মাসে একশো ঘণ্টারও বেশি অতিরিক্ত সময় কাজ করতেন তিনি। তাঁর আত্মহত্যায় হইচই পড়ে যায় দেশে।

কর্মীদের ওভারটাইমে বাধ্য করার জন্য এ বছর মে’তে তিনশোটি সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করেছে জাপানের শ্রমমন্ত্রক।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here