ওয়েবডেস্ক: সারা মাসে ১৫৯ ঘণ্টা ওভারটাইম করেছিলেন ৩১ বছরের সাংবাদিক মিয়া সাদো। জাপানের সরকারি সংবাদ সংস্থা এনএইচকে-র কর্মী ছিলেন তিনি। মূলত রাজনৈতিক খবরের বিভাগ সামলাতেন মিয়া। ২০১৩ সালে উচ্চ কক্ষের ভোট শেষ হওয়ার দিন দুয়েকের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মিয়ার। অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে, মৃত্যুর চার বছর পর এই খবর জনসমক্ষে আনল এনএইচকে।

মিয়া সাদোর মৃত্যুর এক বছরের মধ্যেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, মাত্রাতিরিক্ত ওভার টাইমের অভ্যাস থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিভাবকের চাপেই এত দিন পর সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হল এনএইচকে।  কাজের নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছিল, এক মাসে মাত্র ২দিন ছুটি নিয়েছিলেন ওই তরুণী। মৃত্যুর সময় নিজের বিছানাতেই মুঠোবন্দি ছিল মোবাইল ফোন।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য আত্মহত্যার হার তিরিশ শতাংশ কমানো, কাজের সময় কমাচ্ছে জাপান

কাজের চাপে মৃত্যু জাপানে রীতিমতো নিয়মিত ঘটনা। সে দেশে এই ঘটনাকে বলে ‘কারোশি’। সারা বছরে জাপানে ২০ হাজার লোকের মৃত্যু হয় এই কারণেই। তা হলে মিয়া সাদোর মৃত্যু নিয়ে নতুন করে এত হইচই কেন? কারণ মিয়া কাজ করতেন সে দেশের সরকারি সংবাদ মাধ্যমে, যারা বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের কাজের চাপ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বারবার। দেশ জুড়ে অতিরিক্ত কাজের চাপের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রচার চালায় এনএইচকে। তাঁদের কর্মীদের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটছে জেনে রীতিমত চমকে গিয়েছে টোকিয়োবাসী।

“শেষ মুহূর্তে হয়তো আমার সাথেই কথা বলতে চেয়েছিল মেয়েটা। আমাদের জীবনে যা ঘটে গেল, আগের মতো কোনো দিনই আর হাসতে পারব না”, জাপানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মিয়ার মা। তাঁরা চান না আবার কখনও এমন ঘটনা ঘটুক। এনএইচকে-র পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট রইচি উয়েদার প্রতিক্রিয়া, “মিয়ার মতো প্রতিভাবান সাংবাদিকের এ রকম দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কর্মক্ষেত্রজনিত চাপের কারণেই যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, একে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here