Kim Jong Un

ওয়েবডেস্ক: তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং সে দেশের প্রেসিডেন্ট। সপ্তাহ দুয়েকও কাটেনি,  নিজেদের ইতিহাসে সব থেকে দূরগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করেই উত্তর কোরিয়ার কিম জং হুমকি দিয়েছেন, “পুরো যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের আয়ত্তে।”। এবার দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করল, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, পৃথিবীর আবহাওয়া নাকি তাঁর নিয়ন্ত্রণে। ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’-র দাবি শুনে  সত্যজিত রায়ের ‘মহাপুরুষ’ ছবিটির দৃশ্য আপনার মনে পড়লে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সেই যে ট্রেনের জানলা থেকে সূর্যকে উঠতে বলছেন ‘বাবা’।

সে দেশের শাসক দলের প্রতি মানুষের প্রশ্নাতীত আনুগত্য কতটা ন্যায়সঙ্গত, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই আন্তর্জাতিক মহলে। এর মাঝেই আবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ঘোষণা করল, আবহাওয়া নাকি তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। মাউন্ট প্যাক্টুর সামনে কালো কোট আর হাসি হাসি মুখে কিমের একটি ছবি নিজেদের সাইটে প্রকাশ করে সেই সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, এই ভরা শীতও নাকি হার মেনেছে কিমের ব্যক্তিত্বের কাছে। তাই সেদিন আবহাওয়া ছিল খুবই মনোরম। নিন্দুকেরা যদিও বলছেন, আবহাওয়ার পুর্বাভাস দেখেই দিনক্ষণ হিসেব করে তবেই ৯ হাজার ফুটের প্যাক্টু চড়তে গিয়েছিলেন কিম।

‘হীরকের রাজা ভগবান’ হতে পারেন, কিন্তু কিমের কাছে নস্যি! উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তিন বছর বয়স থেকে গাড়ি চালাতে পারতেন। দেশের সংবাদ সংস্থা ফলাও করে জানিয়েছে এই তথ্য। সঙ্গে রয়েছে কিমের বাবা দ্বিতীয় কিম জং-এর গৌরব গাথাও। বয়স যখন সবে মাত্র তিন সপ্তাহ, প্রথম হেঁটেছিলেন তিনি। আর এইডস, ইবোলা, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের সব ওষুধ নাকি কিমেরই আবিষ্কার। হাইড্রোজেন বোম, স্যাটেলাইট বোম বানিয়েও ক্ষান্ত হননি তাহলে? চিন্তা একটাই। কিমকে টেক্কা দিতে ‘চির শত্রু’ ট্রাম্প এবার কোন তুরুপের তাসটা দেবেন? ভয় হয়। হোয়াইট হাউজের একটা বিবৃতিতে এবার মানব সভ্যতার ইতিহাসটাই বদলে যাবে না তো? কে যানে! ডারউইনকে নয়, হয়তো বিবর্তনবাদের জনক হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই চিনবে আগামী প্রজন্ম!