“লাদাখ আমাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত”, জয়শংকরের কাছে দাবি চিনের বিদেশমন্ত্রীর

0
s jaishankar china
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। যে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি লাদাখ। যেখানে প্রায়শই চিনা সেনা বাহিনীর অনধিকার প্রবেশের ঘটনা লেগে থাকে। ওই অঞ্চলকেই নিজেদের এক্তিয়ারভুক্ত বলে দাবি করল চিন।

তিন দিনের চিন সফরে রয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনেই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং য়াই বলেন, “লাদাখ আমাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত”।

ওয়াং জয়শংকরকে বলেন, “ভারতের সরকার লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার কথা ঘোষণা করলেও ওই অঞ্চল “চীনা ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের ঘোষণা চিনের সার্বভৌমত্বের পক্ষে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দু’দেশের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে”।

ওয়াংয়ের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জয়শংকর বলেন, “লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার পরিকল্পনায় ভারতের বাহ্যিক সীমানা বা চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) তেমন কোনো প্রভাব নেই এবং ভারত কোনো অতিরিক্ত অঞ্চলের দাবি উত্থাপন করছে না”।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে ওয়াংকে উদ্ধৃত করে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, “ভারতের এই পদক্ষেপ না চিনের পক্ষে বৈধ এবং না এই স্থিতাবস্থাও বদলাবে – চিন নিজের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলির উপর সার্বভৌমত্ব এবং প্রশাসনিক এক্তিয়ার বজায় রাখার চেষ্টা করে”।

ওয়াং আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, “চিন কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান ভারত-পাকিস্তান বিরোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের মতো ভারতের পদক্ষেপ বিতর্কিত অঞ্চলের স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করবে এবং এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা দেখা দেবে”।

জয়শংকরের সঙ্গে ওই বৈঠকে একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “চিন বিশ্বাস করে কাশ্মীরের পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে এমন একতরফা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়”।

এর আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিন গেলে ওয়াং একটি লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন,”যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা প্রয়োজন। যে কারণে আমরা ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশের উদ্দেশেই আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখায়”।

এর কয়েক দিন পরেই গত ১১ আগস্ট চিন সফরে যান জয়শংকর। ভারত-চিন হাই-লেভেল মেকানিজম ‌(এইচএলএম)-এর বৈঠকে যোগ দিতে জয়শংকরের ওই সফর হলেও পাশাপাশি ছিল কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে চাপা উত্তেজনার বিষয়টিও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.