Salvator Mundi

ওয়েবডেস্ক: মানুষ আর তার পৃথিবীর জন্য তিনি যা করে গিয়েছেন, তার মূল্য অপরিসীম। কিন্তু সেই ঈশ্বরের পুত্রের প্রায় অদেখা একটি ছবির মূল্য পৌঁছোতে পারে কী রকম আর্থিক অঙ্কে?

পাক্কা ৪৫০.৩ মিলিয়ন ডলারে! অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ২৯৩৭৫,৫৪,৫৬৫০ টাকা! সম্প্রতি ক্রিস্টির ডাকা নিলামে যিশুখ্রিস্টের একটি তৈলচিত্র বিকোল সেই দামেই। সেই সঙ্গে ভেঙে দিল এ যাবৎ সর্বাধিক মূল্যে বিক্রি হওয়া শিল্পসামগ্রীর রেকর্ড। শুধুই বিশুদ্ধ ভক্তি নয়, এই বিপুল পরিমাণ দাম ওঠার আসল কারণটি লুকিয়ে রয়েছে শিল্পীর হাতযশে। তিনি আর কেউই নন, রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। প্রায় ৫০০ বছর আগে আঁকা, নতুন করে খুঁজে পাওয়া এই ছবিটির এতটা দাম ওঠার কারণ এটাই!

আসলে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আসল ছবি খুব বেশি আর নেপথ্যে নেই। মেরে-কেটে হয়তো ২০টা! তার মধ্যেও আবার যিশুখ্রিস্টের এই ছবিটি, যার নাম শিল্পী দিয়েছিলেন ‘সালভাতর মুন্দি’, বাংলায় তর্জমা করলে ‘বিশ্বের পরিত্রাতা’, কিছু বিশেষ স্থান অধিকার করে থাকবে। কেন না, এই ছবিটি সম্পর্কে দুনিয়া খুব বেশি কিছু জানত না। স্বাভাবিক ভাবেই তাই বুধবার রাতে ক্রিস্টি যখন ছবিটিকে নিলামে চড়ায়, নিলামঘরের উত্তেজনা তখন ছিল দেখার মতো।

ক্রিস্টি প্রথমে ছবিটির দাম ধার্য করেছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার। সেই দাম ঘোষণা হওয়ার পরে নিলামঘরে হইচই পড়ে যায়। মোট ১৯ মিনিট ধরে চলে বিশ্বের পরিত্রাতাকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধনকুবেরদের দর হাঁকাহাঁকি। অবশেষে মাত্র পাঁচ জনের মধ্যে চলতে থাকে টাকা ছড়ানোর লড়াই। এবং চাপা উত্তেজনা গ্রাস করতে থাকে ক্রিস্টি কর্ত‌ৃপক্ষকে। জানা গিয়েছে, ছবিটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার পর গোটা নিলামঘর অবরুদ্ধ দীর্ঘশ্বাসে ফেটে পড়ে!

আসলে ১৯৫৮ সালে সোদবি নিলামসংস্থা যখন ছবিটি হাতে পায়, তখন তার দাম ধার্য হয়েছিল মাত্র ৪৫ ডলার! তার পর দীর্ঘকাল ধরে ছবিটি নিয়ে গবেষণা চলতে থাকে শিল্পমহলে এবং লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অবশেষে তার প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অবহিত হয় দুনিয়া। যার ঝলকই দেখা গেল ক্রিস্টির এই নিলামে। জানা গিয়েছে, ক্রিস্টির কাছে ছবিটি এসেছে রুশ সার-ব্যবসায়ী দিমিত্রি রিবোলোভলেভের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ছবির মধ্যে লাস্ট সাপার বা মোনালিসা যে রকম জগদ্বিখ্যাত, ‘সালভাতর মুন্দি’ একেবারেই তা নয়। ছবিটিতে যিশুকে দেখা যাচ্ছে এক ঘন নীল আলখাল্লা পরনে। এক অপার্থিব আলো ঘিরে রেখেছে তাঁকে। যা এই পৃথিবীর নয়। তাঁর এক হাতে ধরা রয়েছে একটি স্বচ্ছ গোলক। অন্য হাতে বরাভয়। আপাতত এই বরাভয় যে ক্রিস্টির আনুকুল্যে, তা নতুন করে না বললেও চলে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here