প্যারিস: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায়। শেষ পর্যন্ত দৌড়ে থাকলেন চরম দক্ষিণপন্থী মারি লে পেন এবং মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ফরাসি টিভির খবর অনুযায়ী প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে ইমানুয়েল ম্যাক্রন পেয়েছেন ২৩.৭% এবং মারি লে পেন পেয়েছেন ২১.৭%। সুতরাং ৭ মে ‘রান-অফ’ তথা চূড়ান্ত লড়াই হবে এই দু’ জনের মধ্যে। তবে সরকারি ভাবে ভোটের ফল এখনও জানানো হয়নি। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় ম্যাক্রন এবং লে পেনকেই চূড়ান্ত দফার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখানো হয়েছিল।

জেতার পর ইমানুয়েল ম্যাক্রন একটি বাক্যে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, “আমরা ফ্রান্সের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা পাতা ওলটাচ্ছি।” মনে রাখা দরকার, আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে এই প্রথম মূল ধারার কোনো মধ্য-দক্ষিণপন্থী বা মধ্য-বামপন্থী দল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত দফায় পৌঁছতে পারল না।

ইতিমধ্যে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেত্রী মারি লে পেনের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবং তাঁর কট্টর, অভিবাসন-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে কিছু ফাসিস্ত-বিরোধী গোষ্ঠীর তরুণ সদস্যরা পূর্ব প্যারিসের প্লাস দে লা বাস্তিল-এ বিক্ষোভ দেখালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। এঁদের মধ্যে পাঁচ জন উল্লেখযোগ্য। ম্যাক্রন এবং পেন ছাড়াও বাকিরা হলেন মধ্য-দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকান প্রার্থী ফ্রাসোয়া ফিলন, সমাজতন্ত্রী প্রার্থী রেনোয়াঁ হ্যামন এবং চরম বামপন্থী প্রার্থী জঁ লুক মেলেশন।

প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে, ম্যাক্রন এবং পেনকে যথেষ্ট বেগ দিয়েছেন মধ্য-দক্ষিণপন্থী ফিলন এবং চরম বামপন্থী মেলেশন। ফিলন পেয়েছেন ১৯.৯% ভোট এবং মেলেশন পেয়েছেন ১৯.৩% ভোট। ফিলন হার মেনে নিয়েছেন এবং চূড়ান্ত দফায় ম্যাক্রনকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে মেলেশন তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, তিনি এই প্রাথমিক ফল মেনে নিচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, এই ফল জনমত সমীক্ষার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে। তিনি তাঁর সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। ও দিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী বেরনাদ ক্যাজনভ তাঁর দলের প্রার্থী রেনোয়াঁ হ্যামনের পরাজয় স্বীকার করে চূড়ান্ত দফায় ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে ভোট দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্যারিসের শাজেঁ লিজেঁতে আইসিস হামলায় এক জন পুলিশকর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। বেশির ভাগ পোলিং স্টেশন সন্ধে ৭টায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্যারিস ও আরও কয়েকটি বড়ো শহরে ভোটারদের আগ্রহ দেখে ভোটগ্রহণের সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ৯ ঘণ্টা ভোটপর্ব চলার পর দেখা যায় প্রায় ৭০% ভোট পড়েছে। শেষ পর্যন্ত এই হার ৮০% ছাড়িয়ে যেতে পারে। ৪০ বছরের মধ্যে ফ্রান্সের নির্বাচনে এত ভোট কখনও পড়েনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here