নয়াদিল্লি: অভিষিক্ত হওয়ার পর কেটেছে মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই ট্রাম্পের এক একটি নীতি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সারা দুনিয়া। কখনও মেক্সিকোর সঙ্গে ৩২০০ কিলোমিটারের দেওয়াল তুলবেন মনস্থির করছেন, কখনও বা গর্ভপাতে সাহায্য করা অসরকারি সংগঠনকে অনুদান দেওয়া বন্ধ করার ঘোষণা করছেন। তাঁর পরামর্শে ডুমস ডে ক্লকের সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে প্রায় আড়াই মিনিট। এ বার ৯০ দিনের জন্য সাতটি দেশের মানুষের আমেরিকায় যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। মুখ খুলেছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকেরবার্গ, নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই-সহ আরও অনেকেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া নিজেও স্লোভানিয়া থেকে এসেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মেলানিয়াই প্রথম মার্কিন ফার্স্ট লেডি, যাঁর জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়নি।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া মালালা খুবই ‘হতাশ’ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তে। “বাবা-মা হারানো অসহায় শিশুগুলোর জন্য মার্কিন প্রশাসন সব রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে”। এই অনিশ্চয়তার সময়ে, ভয়াবহতার সময়ে ট্রাম্প যেন যুদ্ধে বিধ্বস্ত, ওই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেন।  আমেরিকা চিরকাল পৃথিবীর সব উদ্বাস্তুকে আপন করে নিয়েছে, সেটাই ওই দেশের গর্বময় ইতিহাস। সেই ইতিহাস থেকে সরে আসছে আমেরিকা।”

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জুকেরবার্গের গলায়ও একই সুর। নতুন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে মার্ক বেছে নিলেন নিজের তৈরি ফেসবুককেই –“দেশকে নিরাপদ রাখা নিশ্চয়ই দরকার। কিন্তু সে ক্ষেত্রে এটাও দেখা দরকার ঠিক কাদের দিক থেকে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।” আরও বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদেরই দেশ।” জন্মসূত্রে জুকেরবার্গ নিজে মার্কিন নাগরিক হলেও তাঁর পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন জার্মানি থেকে। এমনকি জুকেরবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান ছিলেন চিন এবং ভিয়েতনামের উদ্বাস্তু। মার্ক এই বিষয়ে বলেন, “আমেরিকা যদি ওদের আশ্রয় না দিত, তা হলে প্রিসিলার পরিবার এখানে আসতেই পারতেন না।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here