‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’, বন্দুক রুখতে ঐতিহাসিক মিছিল মার্কিনমুলুকে

0

ওয়েবডেস্ক: জীবনের থেকে বেশি মূল্যবান জিনিস আর কিছু হতে পারে না। সেই জীবনকে তাড়াতাড়ি কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এই বার্তা দিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুবসমাজের নেতৃত্বে এই মিছিলে পা মেলাল আট থেকে আশি। দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন আনতে হবে দেশে।

মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা দেওয়া হয়। এই বৈধতা থেকেই বন্দুক নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা অনেক বেড়েছে দেশে। শনিবারের মিছিলে সেই আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টা থেকে বাল্টিমোর, বোস্টন থেকে শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মিয়ামি, মিনেপোলিস থেকে নিউ ইয়র্ক, স্যান ডিয়েগো  থেকে সেন্ট লুইস,  যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরেই এই মিছিল আয়োজিত হয়ে দাবি উঠেছে বন্দুক নিয়ন্ত্রণের। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও লন্ডন, মরিশাস ও স্টকহোলমেও এমন মিছিলে অংশ নিয়েছেন তরুণরা। বিশ্ব জুড়ে ৮০০-এরও বেশি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এক দিনে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডায় বন্দুকবাজের হামলায় চলে যায় ১৭টা জীবন। সেই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীরাই এই পদযাত্রার আয়োজন করে। এতে সামিল হন সমস্ত শ্রেণি-পেশা-বর্ণের মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই ঘরে বানানো প্ল্যাকার্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে তারা। কোনো কোনো ব্যানারে মার্কিন সরকারের কঠোর সমালোচনা ছিল। তাদের দাবি, মার্কিন সরকারের ওপর তাদের প্রভাব অনেক। কেউ কেউ কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানায় যেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করা হয়। ওয়াশিংটনের এই সমাবেশটি মূলত তরুণরাই আয়োজন করে। পার্কল্যান্ড-সহ অন্যান্য শহরের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেয়। তাদের বেশির ভাগই বন্দুক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত।

march for our lives usa

আয়োজকরা বলেন, প্রতি দিন যুক্তরাষ্ট্রে গুলির আঘাতে প্রাণ হারান ৯৬ জন মানুষ। বছরে দেশে বন্দুক কেড়ে নিচ্ছে প্রায় তিরিশ হাজার প্রাণ। তার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। হগল্যান্ড নামে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা আমাদের দাবি নির্বাচনেই বুঝিয়ে দেব। সবাইকে মার্কিনি হিসেবে সামনে আসতে হবে। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান হিসেবে নয়।” উল্লেখ্য, আর আট মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রে মিড টার্ম নির্বাচন আয়োজিত হবে।

পার্কল্যান্ডে বেঁচে যাওয়া ডেলানি টার বলেন, “এটা শুধু মিছিল নয়। এটা একটা দিনের চেয়ে বেশি কিছু। এটা আমাদের আন্দোলন। আমাদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ দরকার।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যদি ছেড়ে দিই তা হলে এনআরএ-র মতো প্রতিষ্ঠান জিতে যাবে। তারা চায় আমরা যেন সব কিছু ভুলে যাই। কিন্তু আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা এখানে থেকেই সব রাজনীতিবিদের কাছে আবেদন করছি তাঁরা যেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জোরদার করেন।” উল্লেখ্য, এনআরএ অর্থাৎ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী বন্দুক সমর্থক গোষ্ঠী।

আটলান্টার মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নাগরিক অধিকার কর্মী জন লুইস। তিনি বলেন, “আমরা কথা বলার জন্য খুব তরুণও নই আবার খুব বৃদ্ধ নই। আমরা সব সময়ই অস্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলব।” তিনি বলেন, এই অস্ত্রের জন্যই আমরা ৫০ বছর আগে মার্টিন লুথার কিংয়ের মতো একজন নেতা হারিয়েছিলাম। আমরা আমাদের অনেক বন্ধুকে, স্বজনদের হারাচ্ছি। আমি ক্ষুব্ধ। এটা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।”

march for our lives usa

এখন দেখার এই ঐতিহাসিক মিছিলের পরে ট্রাম্প প্রশাসনের টনক কতটা নড়ে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গান লবির’ একজন বড়ো দোসর হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগে ফ্লোরিডার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করে বন্দুক নিয়ন্ত্রণে কিছু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে এ-ও বলেছিলেন যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে বন্দুক ধরিয়ে দিলেই বন্দুকবাজের হামলা কমে যাবে দেশে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন