ওয়েবডেস্ক: ‘মেরি হ্যাড এ লিটল ল্যাম্ব’- নার্সারিতে পড়া এই ছড়াই প্রথম মনে এসেছিল মনে! অতএব বিজ্ঞানের  ইতিহাসে পাকাপাকি ভাবে জায়গা করে নিল এই লাইন। ২১ নভেম্বর ১৮৭৭। মার্কিন বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করলেন ফোনোগ্রাফ। দাবি করলেন, এই যন্ত্রে নাকি ধরা থাকবে যে কোনও শব্দ। নিজের গলায় ওই ছড়ার কয়েকটি লাইন রেকর্ড করে রাখলেন তাঁর যন্ত্রে। বললেন, “এ আমার সন্তানের মতো, বুড়ো বয়সে আমার খেয়াল রাখবে”। বাস্তবে কিন্তু বুড়ো বয়সের অনেক আগেই মেরি তাঁকে এনে দিয়েছিল খ্যাতি। সেই প্রথম অতো মানুষের নজরে পড়লেন এডিসন।

ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া তখন লেগেছে মার্কিন মুলুকেও। একের পর এক আবিষ্কার চলছে। সেই রকম সরগরম এক পরিবেশে ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট দাবি করলেন এডিসন। দোরে দোরে কাগজ বিক্রি করা ছেলেটা রাতারাতি খবরের শিরোনামে। পরবর্তী জীবনে মোট ১০৯৩ টি পেটেন্ট ছিল এডিসনের ঝোলাতে।

১৯৭৮-এই থমাস পৌঁছলেন খ্যাতির চুড়ায়। আবিষ্কার করলেন বাল্ব। সেই সময় কিছুদিন বন্ধ ছিল ফোনোগ্রাফের কাজ। তবে প্রথম সন্তান বলে কথা, বেশি দিন কি ভুলে থাকা যায়! বিনোদনের জগতে ১৯০৬ সালে আরও একবার নতুন করে ঝড় তুললেন এডিসন। বাজারে এল বেশ কিছু মিউজিক্যাল সিরিজ। সৌজন্যে ন্যাশানাল ফোনোগ্রাফ কোম্পানি। বছর ছয়েকের মধ্যে আবার নতুন চমক এডিসন ডিস্ক ফোনোগ্রাফ। গুণগত মানে উৎকৃষ্ট হলেও প্রতিযোগিতার মুখে টিকতে পারেনি তা। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এল বেতার। ব্যাস, ক্রমশ ফোনোগ্রাফের জনপ্রিয়তায় ভাগ বসাল রেডিও। সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেলেন স্রষ্টাও। ১৯৩১ সাল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here