mayanmar arrests journalists rohingya

ওয়েবডেস্ক: রোহিঙ্গা সমস্যা ধামাচাপা দিতে গিয়ে এ বার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে বসল মায়ানমার। রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবর করার ‘অপরাধে’ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করল মায়ানমার সরকার।

বুধবার দুই সাংবাদিকের গ্রেফতারির সত্যতা স্বীকার করে মায়ানমার। রোহিঙ্গাদের ওপরে মায়ানমার সেনার অত্যাচারের খবর সংগ্রহ করছিলেন ওয়া লোন এবং কোয়া সে লু নামক দুই সাংবাদিক।

নিজেদের ফেসবুক পেজে এই খবর দিয়ে মায়ানমারের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই দুই সাংবাদিকের পাশাপাশি দু’জন পুলিশকর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট’ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ধারায় সর্বোচ্চ চোদ্দো বছরের হাজতবাস হতে পারে।

এই গ্রেফতারির ব্যাপারে মন্ত্রকের প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিদেশি মিডিয়ার জন্য বেআইনি ভাবে খবর সংগ্রহ করছিল এই দুই সাংবাদিক।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এই দুই সাংবাদিককে একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানায় সে দেশের পুলিশ আধিকারিকরা। তার পর থেকেই তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দুই সাংবাদিকের গ্রেফতারির পরে বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। রয়টার্স থেকে ইওরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জ, নিন্দায় সরব সবাই। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন অ্যাডলার বলেন, “যে ভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন করছি, দ্রুত এই সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া হোক।”

মায়ানমারের মার্কিন দূতাবাস একটি বিবৃতিতে বলেছে, “গণতন্ত্রকে যদি সফল ভাবে চালনা করতে হয়, তা হলে সাংবাদিকদের কাজে কোনো ভাবেই হস্তক্ষেপ করা যাবে না।” রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “সাংবাদিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপরে খবর করছিলেন। তাই তাদের গ্রেফতার হতে হয়েছে।” মায়ানমারের কাছে সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবিও করেছে গুতেরেস।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here