rohingya cleansing

ওয়েবডেস্ক: মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বুলডোজার চালিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম। উপগ্রহ চিত্র দেখে এমনই দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই মায়ানমার সরকার এটা করছে বলে দাবি এইচআরডব্লিউ-এর।

এই মানবাধিকের সংগঠনের দাবি অন্তত ৫৫টি এ রকম গ্রাম সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে মায়ানমার। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্যসন্ধানী মিশন যাওয়া পর্যন্ত এ সব অপরাধের এলাকা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। কিছু দিন আগে একই অভিযোগ তুলেছিল ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’ নামে মায়ানমারের স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা।

গত বছর আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে মায়ানমারের বিরুদ্ধে। এর কিছু দিন আগেই মায়ানমারের পুলিশের ওপরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল একটি রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তার পরেই রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে নামে মায়ানমার। শুধু জঙ্গি নয়, টার্গেট করা হয় সাধারণ গরিব রোহিঙ্গাদেরও। যদিও মায়ানমার সব সময় দাবি করে এসেছে, সাধারণ নিরপরাধ মানুষ নয়, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র জঙ্গিরা। কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দাবি করেছে মায়ানমার পুরোপুরি রোহিঙ্গাদেরই মুছে দিতে চাইছে।

মায়ানমার থেকে কাতারে কাতারে রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে। যার ফলে বিপুল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশও। রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখে রাষ্ট্রপুঞ্জ অভিযোগ করেছিল, “জাতি হিসেবে রোহিঙ্গাদের মুছে দেওয়া হচ্ছে।”

রাখাইন প্রদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি যেতে চাইলেও মায়ানমার তাদের অনুমতি দেয়নি। অনুমতি দেওয়া হয়নি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনকেও। এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়ার ডিরেক্টর ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “ওই সব অঞ্চলে বুলডোজার চালিয়ে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের স্মৃতি তো বটেই, জমির ওপর থেকে তাদের আইনত দাবিও মুছে ফেলতে চাইছে।”

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মায়ানমার এবং বাংলাদেশ একটি সিদ্ধান্তে এসেছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী হয়েছে মায়ানমার। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ফিরে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন গ্রাম তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা কোনো ভাবেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অ্যাডাম্‌সের মতে, যে ভাবে রোহিঙ্গাদের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্ যবুলডোজার চালানো হয়েছে তাতে রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে আদৌ শান্তিতে থাকতে পারবে কি না সেটা সব থেকে বড়ো প্রশ্ন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here