জেনেভা : ব্যস্ততার জীবনে কমে আসছে সময়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে জীবন। প্রথম বিশ্বের একাধিক দেশেই রক্ত মাংসের মানুষের জায়গা নিচ্ছে কৃত্রিম মানুষ। দৈনন্দিন জীবনে তাদের অপরিহার্যতা বাড়ছে ক্রমশ। রোবটকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে এ বার ভোট দিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কমিটির সদস্যরা।

লুক্সেমবার্গের এক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কমিটির সদস্য ম্যাডি ডেল্ভক্স রোবট নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন সম্প্রতি। পার্লামেন্টের ১৭ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন পক্ষে। তাঁদের দাবি, রোবটকে দিতে হবে ‘বৈদ্যুতিন মানব’-এর মর্যাদা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের কিছু নিয়ম মানতে হবে। যেমন, রোবটদের মস্তিষ্ক তৈরি করার সময় ডেভেলপারদের মাথায় রাখতে হবে, কোনো ভাবেই রোবটটি যেন কোনো মানুষের অথবা মানবতার বিরুদ্ধে  কাজ না করে। রোবটের পাশাপাশি একটি ‘কিল বাটন’-এর ব্যবস্থা রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। কোনও রোবটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সে ক্ষেত্রে ওই বোতাম টিপলেই রোবটটির আর কোনো সাড় থাকবে না। 

রোবট আর মানুষের এই সমকক্ষ হয়ে যাওয়ায় কারওরই যে কোনো আপত্তি নেই, তা কিন্তু নয়। অনেকেই ইতিমধ্যে নিয়ম কাননের বহর দেখে বেশ চিন্তিত। আইনি স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

কাজ করার ক্ষমতা, স্বাধীনতা, দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে রোবটের শ্রেণি বিভাগের পরামর্শও দেওয়া হয় রিপোর্টে। উচ্চ ক্ষমতা যুক্ত রোবটের দায়িত্বও বেশি হবে স্বাভাবিক ভাবেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডেল্ভক্স বলেছেন, ”রোবট কখনোই কর্মক্ষেত্রে মানুষের জায়গা নিতে পারবে না, বরং সহযোগিতার ভিত্তিতে মানুষ আর রোবট পাশাপাশি কাজ করতে পারে। তবে রোবটের কোনো দিনই কোনো আবেগ থাকবে না। আপনাকে ভালোবাসতেও পারবে না, দুঃখও পাবে না”।


আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হাউস জুড়ে হবে ভোট। রোবটদের আইনি স্বীকৃতি পেতে হলে এখন চাই হাউসের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। 

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here