একজন সাধারণ নারী থেকে সন্ত হওয়ার পথপরিক্রমা শেষ হল মাদারের। রবিবার ভ্যাটিকান সিটির পোপ ফ্রান্সিস প্রিয় মাদারকে সন্ত ঘোষণা করলেন।

তাঁকে সন্ত ঘোষণা করার অনুষ্ঠানে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে দেশ বিদেশ থেকে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে সাক্ষী থাকতে ভারত থেকে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি। রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। এই শুভ মুহুর্তের সাক্ষী হতে নীল-সাদা শাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী হেঁটে  ভ্যাটিকানে পৌঁছন। কবিগুরুর ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’ গানটি গাইতে গাইতে সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ডেরেক ও’ ব্রায়েন প্রমুখ।


মাদারকে সন্ত ঘোষণা করার প্রথম প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে বিয়াটিফিকেশনের মধ্যে দিয়ে। এর আগে ভ্যাটিকান থেকে মাদারের অলৌকিক ক্ষমতার কথা ঘোষণা করা হয়। সেটি হল পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামের এক জন মরণাপন্ন আদিবাসী মহিলার টিউমার সেরে যাওয়ার ঘটনা। ক্যানোনাইজেসনের জন্য দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে এসেছে অল্প কিছু দিন আগেই। ব্রাজিলের মৃত্যুপথযাত্রী এক বাসিন্দার টিউমার সেরে যায়। তিনি জানান, মাদারের কৃপায় তাঁর টিউমারটি সেরে গেছে।

১৯৯৭ সালে ৫ সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়স মাদার প্রয়াত হন। মৃত্যুর ঠিক ১৯ বছর পর তাঁর মাদার থেকে ‘সন্ত’-এ উত্তরণ ঘটে। মাদার টেরিজাকে সন্ত ঘোষণা করার জন্য বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ভ্যাটিকান সিটি সেজে উঠতে শুরু করে। অবশেষে রবিবার সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত উপস্থিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদারের উদ্দেশে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এর পর পোপ ফ্রান্সিস ‘সন্ত’ ঘোষণাপ্রক্রিয়া বর্ণনা করেন। তার পর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে মাদারকে সন্ত ঘোষণা করেন পোপ। শুরু হয় মাদারের দেহাবশেষ আর ব্যবহৃত জিনিসগুলিকে সম্মানিত করার প্রক্রিয়া। এখন থেকে মাদারের ছবিতেও মাথার পেছনে জ্যোতি বলয় দেওয়া যাবে। কারণ সন্তরা হলেন ঈশ্বরের সেবক। তাঁদের মাথার পেছনেই কেবল এই আলোক বলয় দেওয়া যায়।

১৯১০ সালে ২৫ আগস্ট আলবেনিয়ায় জন্ম মাদারের। ১৯২৮-এ নান হন তিনি। হয়ে ওঠেন সিস্টার টেরিজা। এর পর কয়েক বছর পরে সিস্টার টেরিজা হন মাদার টেরিজা। ১৯২৯ সালে ভারতে আসেন। ১৯৫০ সালে মাদারের হাত ধরে যাত্রা শুরু মিশিনারিজ অফ চ্যারিটির। মাত্র হাতে গোনা কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে। সেই মিশিনারিজ অফ চ্যারিটির প্রায় সাড়ে চার হাজার নান আজ বিশ্ব জুড়ে সেবাধর্ম পালন করে চলেছেন। মোট ১৯ টি শাখা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মাদার টেরিজা তাঁর সেবা ও শান্তির কাজের জন্য ১৯৭৯-তে নোবেল পুরস্কার পান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here