মানবজাতির কল্যাণে এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা! নাসা (NASA‌)-র ডার্ট (DART) মহাকাশযান সোমবার ডিমরফস নামে গ্রহাণুতে আঘাত হানতে সফল! পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা কোনো গ্রহাণুকে কী ভাবে প্রতিহত করা যাবে, তা নিয়েই এই গবেষণা। সেই পরীক্ষাতেই এল সাফল্য।

ডবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট প্রোব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিজের প্রথম ধরনের পরীক্ষা চালানোর ১০ মাস পরে সোমবারই ঘটল এই সংঘর্ষ। ইস্টার্ন টাইম সন্ধ্যে ৭টা ১৪ মিনিট (২৩১৭ জিএমটি) এই ঘটনাটি ঘটে।

নাসা-র গ্রহবিজ্ঞান বিভাগের ডিরেক্টর লরি গ্লেজ বলেছেন, “আমরা একটি নতুন যুগের সূচনা করছি, এমন একটি যুগ যেখানে আমাদের সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণুর প্রভাবের মতো কিছু থেকে নিজেদের রক্ষা করার ক্ষমতা থাকবে”।

৫৩০ ফুট (১৬০) গ্রহাণু ডিমরফস (Dimorphos)-কে মোটামুটি একটা মিশরীয় পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যে‌টা ডিডিমস (Didymos) নামে একটি বড়ো গ্রহাণুকে প্রদক্ষিণ করে। সংঘর্ষের প্রায় এক ঘণ্টা আগে প্রথম বার আলোর রেখা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।

ঘণ্টায় প্রায় ১৪,৫০০ মাইল (২৩,৫০০ কিলোমিটার) গতিবেগে সেটার দিকে ছুটে যায় ডার্ট। এটি ডিম্বাকৃতি এবং খড়্গযুক্ত, বোল্ডার-ডটেড পৃষ্ঠ থেকে শেষ কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিষ্কার দৃশ্যে এসে পৌঁছায়। দেখা যায়, ডার্ট ওই গ্রহাণুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী অভিমুখে ধেয়ে আসা অনেক গ্রহাণু মানব সভ্যতার পক্ষে ভয়াবহ হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই অভিযানে নেমেছে নাসা। প্রায়শই পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রহাণু। তার মধ্যে কিছু গ্রহাণু পৃথিবীর পক্ষে বিপজ্জনক। যেহেতু গ্রহাণু পৃথিবীর ক্ষতি করতে পারে, সে হেতু মহাকাশেই তা মোকাবিলা করার পরীক্ষামূলক এই অভিযান।

নাসা আসলে দেখতে চাইছে, এ ভাবে মহাকাশযান দিয়ে ‘ধাক্কা মেরে’ কোনো গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেওয়া যায় কি না। এই ধাক্কা মারার মাধ্যমে ডিমরফসের কক্ষপথ সামান্য বদলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। একটি বাস্তব প্রয়োজন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে পরীক্ষাটি চালানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে নাসা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন