ওয়েব ডেস্ক: পৃথিবী সবচেয়ে উঁচু পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা একই আছে, যা আমরা জানি? তা জানতেই উদ্যোগ নিল নেপাল। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮, ৮৪৮ মিটার(২৯,০২৯ ফুট)। এমনটাই মানা হয়ে থাকে। ১৯৫৪ সালে ভারতের পক্ষ থেকে এভারেস্টের উচ্চতা এটাই নির্ণয় করা হয়েছিল। তারপর থেকে পৃথিবীর বহু দেশের বহু দল এভারেস্টের উচ্চতা মাপলেও, এই পরিমাপটির তেমন কোনো বিরোধিতা হয়নি।

তাহলে কেন প্রয়োজন হল নতুন করে মাপার?

২০১৫ সালে নেপালে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে তার তীব্রতা ছিল ৭.৮। তাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। এমনকি সেই ভূমিকম্পের সময় এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে উপস্থিত ১৮ জনের মৃত্যু হয়। অনেকেই মনে করেন, ওই ভূমিকম্পের ফলে এভারেস্টের উচ্চতা পালটে গিয়েছে। সেই সন্দেহ নিরসনেই এই উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল সরকার।

নেপাল সরকারের সার্ভে দফতরের প্রধান গণেশ প্রসাদ ভট্ট জানিয়েছেন, “মাউন্ট এভারেস্ট নেপালের সীমানার মধ্যে পড়লেও আমরা কখনও তার উচ্চতা মাপিনি। নেপালের মানুষও যে এভারেস্টের উচ্চতা মাপতে সক্ষম, এবার আমরা তা প্রমাণ করে দেব”। স্থানীয় শেরপা ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মাপার পদ্ধতিকে সুচারু করার কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভবত আগামী এপ্রিল বা অক্টোবরে শেরপারা যন্ত্রপাতি নিয়ে এভারেস্ট আরোহণের উদ্দেশে যাবেন। সপার কাজ শেষ হতে ২ বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

৬ বছর আগেই নেপাল জানিয়েছিল, তারা এভারেস্টের দৈর্ঘ্য নতুন করে মাপতে চায়। কারণ সেসময় চিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এভারেস্টের উচ্চতা বলে যেটা জানা আছে, প্রকৃত উচ্চতা তা নয়, বরং চার মিটার কম। কিন্তু তখন মাপার কাজ শুরু হয়নি।

তার আগে ১৯৯৯ সালের মে মাসে একিট মার্কিন দল জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে এভারেস্টের উচ্চতা মাপে। তখন তারা সর্বোচ্চ উচ্চতায় দুই মিটার যোগ করেছিল। ওই প্রযুক্তি আমেরিকায় ব্যবহার করা হলেও, সারা পৃথিবীতে গ্রাহ্য নয়।

এ বছরের এপ্রিলের মরশুমে ‘হিলারি স্টেপ’ নিয়ে বিতর্ক বাধে। এভারেস্টের শৃঙ্গে ওঠার একটু ওই প্রস্তরখণ্ডটির অস্তিত্ব সম্পর্কে পর্বতারোহীরা ওয়াকিবহাল। একজন অভিজ্ঞ ব্রিটিশ পর্বতারোহী বলেন এ বছর শৃঙ্গ আরোহণ করে ফিরে বলেন, সেটি আর নেই। ভূমিকম্পের ফলে সম্ভবত সেটি ভেতরে ঢুকে গিয়েছে বা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় শেরপারা সেই দাবি মানতে চাননি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here