Connect with us

প্রবন্ধ

ট্রেনে সামনে বসা সাদা যাত্রী গাল পাড়ে, হাড় কেঁপে ওঠে বই-কি !

নিশান চট্টোপাধ্যায় নিউ ইয়র্কে যখন প্রথম আসি সালটা তখন ২০১০। ডেনমার্কের গভীর একাকিত্ব ছেড়ে এ শহর নিতান্ত মন্দ ছিল না। বিমানবন্দরের সহাস্য শিখ ট্যাক্সিওলা বাড়ি পৌঁছে দিয়ে দাড়ির ফাঁকে হেসে বললেন, “ওয়েলকাম টু নিউ ইয়র্ক”। এ জিনিস ইউরোপে দুর্লভ। Loading videos… জীবনে এতদিন এক শহরে থাকার অভিজ্ঞতাও আমার এই প্রথম। আতঙ্কে ছিলাম, হাজারটা দ্বিধা দ্বন্দ্ব […]

Published

on

nishan-chatterjee_editedনিশান চট্টোপাধ্যায়

নিউ ইয়র্কে যখন প্রথম আসি সালটা তখন ২০১০। ডেনমার্কের গভীর একাকিত্ব ছেড়ে এ শহর নিতান্ত মন্দ ছিল না। বিমানবন্দরের সহাস্য শিখ ট্যাক্সিওলা বাড়ি পৌঁছে দিয়ে দাড়ির ফাঁকে হেসে বললেন, “ওয়েলকাম টু নিউ ইয়র্ক”। এ জিনিস ইউরোপে দুর্লভ।

Loading videos...

জীবনে এতদিন এক শহরে থাকার অভিজ্ঞতাও আমার এই প্রথম। আতঙ্কে ছিলাম, হাজারটা দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল, মনে হত প্রতি মুহূর্তে ‘এ আমার নয়, এ বড়ো অচেনা, এ বড়ো পর’। বাড়িওলা রাশিয়ান, তার বৌ থাই, আমি ভারতীয়। ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা আমাকে বলেছিল, সব চেয়ে বেশি সমস্যা হবে রান্নার গন্ধ নিয়ে, কিন্তু এখানেও চমক। আমার খাবারের গন্ধে তাদের অসুবিধা তো হতই না, প্রকারান্তরে আমার একা লাগলে আমাকে নিয়ে রেস্তোরাঁ যাওয়া হত, দোকান-বাজারের জন্য গাড়ি লাগেনি, কারণ তারাই আমাকে নিয়ে যেত, বাইরে ঘুরতে গেলে আমার জন্য কিছু না কিছু উপহার আসত, রান্না করতে ভুলে গেলে ফ্রিজে খাবার রাখা থাকত।

বাইরে, আমেরিকার আর দশটা জায়গার মতো কথা বললেই ‘সে ইট এগেন’ ধেয়ে আসে না এবং শহরের মূল মন্ত্র ‘নো ওয়ান কেয়ারস’ (আদত কথাটা শুনতে আরও খারাপ, বাঙালির জন্য সমীচিন নয়।)

জ্যাকসন হাইট বাংলা বিজ্ঞাপনে উজ্জ্বল, তার দু’ পা দূরে চিনেপাড়া, তার গায়ে গা লাগিয়ে ‘মুক্ত তিব্বত’ দাবি, তার পাশে কোরিয়ান ‘চু তে’ চার্চ। আছে কিন্তু সবাই। ‘সাবান দিমু ডইলা’র সুরে এলভিস মিশে যাচ্ছে কফির পরতে পরতে ক্রিমের মতো। যাচ্ছে কিন্তু ঠিকই। হয়তো আলাদা করা যাচ্ছে না, কিন্তু আছে।

এ রকম ভাবেই গ্রীষ্ম বর্ষা শীত পেরোতে পেরোতে কখন আমিও শহরের অংশ হয়ে গেছি সেটা বুঝে উঠতে পারিনি। ঠিক যেমন ভাবে বোঝা যায় না ঘুম থেকে ওঠার স্পষ্ট মুহূর্ত, কিংবা ঠিক কখন শরতের শেষে শীত শুরু হল। আবিষ্কার করলাম, শহরের নিজস্ব কোনো ভাষা নেই, ভাষ্য যদিও আছে। ফ্লাশিঙের অন্তর্লীন ভাষা চৈনিক, করোনা’র স্প্যানিশ, জ্যাকসন হাইটের বাংলা, স-অ-ব মিলিয়েই শহর। ইংরাজিরও কোনো বাঁধা বুলি নেই, ব্রিটিশ কৌলিন্য ছেড়ে সে পাড়ায় পাড়ায় গড়ে নিয়েছে নিজের আঙ্গিক।— আমার শহর!!

নিউ ইয়র্কের সমস্যা হল বাড়িভাড়া। ভাড়া বাড়ছে বাড়ছে, কোনো দিন আকাশ ছোঁবে নিশ্চয়ই, তার পরের দিন আকাশও লজ্জা পাবে! লোকজনের মাইনে নেই, থাকার জায়গা নেই, মোড়ে মোড়ে দৈন্য। মোড়ে মোড়ে গৃহহীন লোকজন। দারিদ্রের আরও প্রকট রূপ ল্যাটিন পাড়ায়, কালো পাড়ায়। যারা বাইরে থেকে আসছে তারা বাধ্য হচ্ছে সেখানে থাকতে কারণ ভাড়া কম, অতএব কালের নিয়মে ভাড়া বাড়ছে সেখানেও, এবং আদি বাসিন্দা অনেকেই উঠে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নিউ ইয়র্কে ব্যাপারটা প্রকট হলেও বাকি দেশে একই সমস্যা চলছে অনেক দিন ধরেই।

৭০-এর দশকের আগে বাজারের বাঁধা বুলি ছিল, আমেরিকা দেখিয়ে দিয়েছে পুঁজিবাদই আসল পথ! মাও মাকু দূরে হটো, হাম হোঙ্গে কামিয়াব। পশ্চিমবাংলার পাড়াতে অবধি সায়েবি দাদারা দামি চশমার কোণ ঘেঁষে অপাঙ্গে দৃকপাত করে মুচকি হেসে বলতেন, “কি দিল তো দেখিয়ে?” গভীর দুঃখের বিষয়, সে দেখা আর দেখা হয়ে উঠল না। মার্কিন স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে ক্ষণজীবি ফানুসের মতো পুটুস করে নিভে গেল। তা হলে হল কি ঠিক?

highlight১৯৭০-এর পর থেকেই আমেরিকায় আসল মাইনে (মূল্যবৃদ্ধি হিসেব করে) আর বাড়েনি। কম বেড়েছে নয়, বৃদ্ধির হার কমে গেছে তা-ও নয়, স্রেফ বাড়েনি। অথচ সবাই জানত, আমেরিকা মানে, খাটো, ফল পাবে, তোমার চেয়ে তোমার ছেলে ভালো থাকবে, তার ছেলে আবার তার থেকেও ভালো থাকবে।

হয়নি!

প্রকারান্তরে সোভিয়েত ভিলেনের দরুণ বাম মাত্রেই ‘কমি’ এবং ‘কমি’ মাত্রেই রাশিয়ান চর ধরে নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের সমস্ত অভিমুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অজস্র কোম্পানি কর্মী-সংগঠন বেআইনি ঘোষণা করে এবং প্রচার চালাতে থাকে কেন সংগঠন উন্নয়ন-পরিপন্থী?

ফলত, যখন হাজারটা ব্যবসা এখন থেকে পাততাড়ি গোটাতে শুরু করে, তাকে রোখার কোনো ক্ষমতা মানুষের ছিল না! একটা গোটা দেশের জনতা ‘ওয়ার্কার’ থেকে ‘কনজিউমার’ হয়ে গেল। তাদের জামা হয় চিনে, ড্রেনের ঢাকনা আসে ভারত থেকে! তারা শুধু কেনে, কেনে এবং কেনে। ইহাই বর্তমান আমেরিকার মূলমন্ত্র! কিন্তু কিনতে গেলেও পয়সা লাগে, বাজারে চাকরি যখন নেই, তখন কিনবে কী করে? ধার নিয়ে অবশ্যই! প্রশ্ন হল, ধার শোধ হবে কী করে? সেখান থেকেই আসছে ২০০৮ এর মন্দা! যাই হোক সেটা নিয়ে লিখছি না আমি, সেটা নিয়ে পরে কোনো সময় বলা যেতে পারে।

এটুকু বোঝাই যথেষ্ট যে মানুষ সমস্যায় আছে. তারা জানে না সমস্যার উৎস কী। দিনগত পাপক্ষয়ের এবং নিজস্ব সমস্যায় তার বোঝার সময়টুকুও নেই! বাপ‌-দাদাকে দেখে সে জেনেছিল লেখাপড়া না করলেও চাকরি পাওয়া যায়, বাঁচা যায়, কিন্তু এখন আর যাচ্ছে না! কয়লাখনি বন্ধ, নতুন চাকরির কাজ করে দিচ্ছে সস্তার বেআইনি অভিবাসী, পড়ানোর চাকরির কেবল ১৭% বার্ষিক ঠিকের ভিত্তিতে চলে না! সব মিলিয়েই একটা ঘেঁটে ঘ দশা!

এখন, মানুষের নিজস্ব কিছু মানসিক ব্যাপার আছে, প্রথমত তার কৌতূহল অসীম, দ্বিতীয়ত সে সব কিছুর ব্যাখ্যা করতে চায়। এই দুইয়ের সমাধান জ্ঞানলাভ। জ্ঞানলাভের দু’টি উপায়, প্রত্যক্ষ ও পরের মুখে ঝাল খাওয়া। এবং শেষে যুক্তির উপর যুক্তি সাজিয়ে প্রমাণ! কৌতূহল নিরসন!

(আমরা, যারা অঙ্ক/দর্শন নিয়ে কাজ করি, তারা জানি যুক্তি জিনিসটা ঠিক অতটাও সহজ না! অপপ্রয়োগ অতি সহজ, এবং সামাজিক হারে হতে শুরু করলে অবশ্যম্ভাবী। )

এ ক্ষেত্রে মানুষের সমস্যাগুলো বাস্তব। তার ভাবার, পড়ার, বোঝার সময় নেই, তার বোধ তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক শিক্ষাব্যবস্থায়, যে ব্যবস্থা তাকে ২১ বছর বয়সেও ভগ্নাংশের যোগ করতে শেখায়নি। অতএব তার প্রত্যক্ষের দৌড় বেশি নয়। তা হলে, জ্ঞানলাভের উপায় কি?

যা ব্বাবা? টিভি ও গুণীজনের বাণী! গুণীজন কে?

যে সমাজের প্রকৃত ঈশ্বর টাকা (এক ইঞ্চিও বাড়িয়ে বলা নয়), সেখানে গুণীজন কারা বোঝাটা কি মুশকিল?

তার উপর দেশ জুড়ে কিলবিল করছে অচেনা লোকজন, তাদের ভাষা বুঝি না, তাদের খাবারের গন্ধ ভালো না, তাদের দেখতে কেমন যেন….. আর এই শালারা আসার পর থেকেই চাকরি কমে যাচ্ছে।..শালারা জিনিস বানিয়ে বেচবে আমাদের, আবার আমাদের বুকের উপর বসে খাবে — এই মত গুণীজনের মতের সমান্তরাল, অতএব ৩০ বছরের লালিত সমস্যা ঝেড়ে ফেলো এদের উপর (সমাধান তো হবেই না, সমস্যা বাড়বে সম্ভবত, সময় ভালো নয়)। তা ছাড়া সাদা হাজারটা লোকের মধ্যে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের বীজ সুপ্ত ছিল অনেক দিন, বাকিরা একই নিয়ম মেনে সাদাদের চেয়ে সামান্য কালো দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে, অবদমিত মানুষ একজোট হওয়ার বদলে পারস্পরিক খেয়োখেয়ি বেড়ে চলেছে।

highlightকানসাসে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার মারা গেলেন গুলিতে, কেন্টে শিখ ভদ্রলোক গুলি খেলেন (৯/১১ র সময়ও এর ব্যত্যয় হয়নি), আরো আরো… চলতেই থাকবে।… মানুষের বোধহয় ঘৃণা ও কৌতূহল দুই-ই অসীম।

আমাকে আগে হাজারটা লোক মেক্সিকান বলে ভুল করত। সেই মেক্সিকান, যারা শহরকে সচল রাখে অল্প পয়সায় কাজ করে, লাইন দেয় খাবারের ট্রাকের পেছনে, একটা ঘরে দশটা পরিবার নিয়ে থাকে! সাথে উদ্দাম আনন্দ, আর মায়াময় ভাষা। আমার মজাই লাগত!

আজকাল লাগে না. দু’দিন ট্রেনে দেখেছি সাদা লোক উলটো দিকে বসে ‘Another fucking mexican…get out of our country’ বলে গেছে। আরেক দিন এক মধ্যবয়স্ক মহিলা বাদামি সবার জাত তুলে গাল দিয়ে শেষপাতে বললেন, “mexican, I am watching you, mama is watching you, I am gonna slash your face with my knife, right here”, হাড় অল্প কেঁপে ওঠে বই-কি।

বছরখানেক আগে এ রকমই এক সকালে এক লাতিন মহিলা একজন বাঙালিকে ফেলে দিয়েছিলেন ৭ নম্বর ট্রেনের সামনে, ভদ্রলোক কুচি কুচি হয়ে গেছিলেন। উন্মাদ সেই মহিলা জানান, তিনি দেশকে হিন্দু ও মুসলিম মুক্ত করতে চান! সেই সকালে সুনন্দবাবু কি ভাবছিলেন জানি না! প্রেসে যাওয়ার অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যস্ততার মধ্যে বাদামি না-হওয়াটা খেয়াল ছিল না হয়তো! সে সময় এটা ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, কিন্তু এ ভাবেই বোধহয় শুরু হয়…।

আমি আজকাল আর ট্রেন দেখার জন্য ঝুঁকি না, পেছনে অন্য কেউ দাঁড়িয়ে আছে দেখলেই আরও পেছনে সরে যাই, তর্কে যাই না, লোকজন পকেট হাতড়ালেই দৌড়োনোর জন্যে তৈরি থাকি।…. গোটা দেশ জুড়ে ঘৃণা বেড়ে উঠছে। .. আর আমার শহর কী রকম ববদলে যাচ্ছে।.. চোখ চলে না, বিষের কুয়াশায় রাস্তার আলোগুলোও ঝাপসা হয়ে আসে… আমার শহর বোধহয় আর আমার রইল না।

বাকি সব জায়গা নিয়ে আমার যে ভাবার সময় নেই!

(লেখক নিউইয়র্কের বারুখ কলেজের অঙ্কের শিক্ষক)

 

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞান1 hour ago

প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজে ২টো আলাদা ভ্যাকসিন নিলে কী ঘটবে, জানাল গবেষণা

রাজ্য2 hours ago

Bengal Corona Update: রাজ্যে আরও বাড়ল সংক্রমণ, তবে কলকাতা-সহ ১০ জেলায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যায় পতন

দঃ ২৪ পরগনা2 hours ago

কোভিডরোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করল জয়নগর মজিলপুর পুরসভা

sputnik v vaccine
দেশ3 hours ago

Sputnik V: আগামী সপ্তাহেই ভারতের বাজারে তৃতীয় কোভিড ভ্যাকসিন, জানাল কেন্দ্র

দেশ3 hours ago

অমিত শাহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? দিল্লি পুলিশে ‘নিখোঁজ ডায়েরি’

ক্রিকেট4 hours ago

ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার কেন? অদ্ভুত যুক্তি দিলেন টিম পেইন

মুর্শিদাবাদ4 hours ago

অনাস্থার আগেই মুর্শিদাবাদের জেলা সভাধিপতির পদ থেকে পদত্যাগ শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠর

রাজ্য5 hours ago

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার2 days ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

বিজ্ঞান2 days ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

দেশ3 days ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

শরীরস্বাস্থ্য1 day ago

করোনার এই দুঃসহ সময়ে অক্সিজেন বিপর্যয়ের সহজ সমাধান দিলেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল

বিজ্ঞান2 days ago

রক্তের গ্রুপের উপর কি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, গবেষণায় জানাল সিএসআইআর

প্রযুক্তি2 days ago

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোভিড অ্যাপ, সহজে জানা যাবে যাবতীয় তথ্য

দেশ2 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণকে ছাপিয়ে গেল সুস্থতা, দু’মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর অবশেষে কমল সক্রিয় রোগী

সম্পর্ক1 day ago

Corona Crisis: এই কঠিন সময়ে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই সম্পর্ক অটুট থাকবে

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে