করোনায় স্কুল বন্ধ রাখার পিছনে নেই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, বিতর্ক উসকে দিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের ডিরেক্টর

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার এবং স্কুল খোলার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই প্রমাণিত হয়নি, দাবি বিশ্বব্যাঙ্কের গ্লোবাল এডুকেশন ডিরেক্টরের!

নয়াদিল্লি: করোনা মহামারির আবির্ভাব থেকেই একাধিক বার বন্ধ হয়ে ফের খুলেছে অনেক কিছুই। তবে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুলগুলি। অপেক্ষাকৃত উঁচু শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মাঝে দু’-এক বার স্কুল খুললেও ছোটোদের জন্য দরজা বন্ধ প্রায় দু’বছর। করোনা সংক্রমণ রুখতে এমন পদক্ষেপের মধ্যে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই বলে বিতর্ক উসকে দিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের গ্লোবাল এডুকেশন ডিরেক্টর জেইমে সাভেদরা।

স্কুল বন্ধ থাকবে কেন?

করোনা মহামারির মধ্যে স্কুল বন্ধ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেইমে বলেন, স্কুলগুলি আবার খোলার জন্য শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করার কোনো মানেই হয় না। কারণ, এর পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। করোনার কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম। উলটো দিকে, স্কুল বন্ধ রাখার কারণে তাদের শিক্ষাগত ঘাটতি অনেক। মহামারি চলাকালীন স্কুলগুলি বন্ধ হওয়ার কারণে, ভারতে শিশুদের মধ্যে শিক্ষার ঘাটতি ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছোবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্কুল কি অনিরাপদ স্থান?

বিশ্বব্যাঙ্কের গ্লোবাল এডুকেশন ডিরেক্টর জেইমে সাভেদরা বলেছেন, স্কুল পুনরায় খোলার ফলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে অথবা পড়ুয়াদের জন্য স্কুল ‘নিরাপদ স্থান’ নয় বলে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বলছেন, শিশুদের টিকা না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ ধরনের যুক্তিরও কোনো মানে নেই। কারণ, এর পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অন্য দিকে, বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, স্কুলগুলো খোলা হলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে, বিপরীতে বন্ধ রাখলে খরচ অনেক বেশি।

এটা কি নিছক অজুহাত?

করোনা আবহে স্কুল শিক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটনে সংবাদ সংস্থার কাছে একটি সাক্ষাৎকার দেন সাভেদরা। তিনি বলেন, স্কুল খোলার সঙ্গে করোনা বিস্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। দু’টিকে সংযুক্ত করার কোনো প্রমাণ নেই এবং এখন স্কুল বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। করোনার নতুন ঢেউ এলেও, স্কুল বন্ধ করাই শেষ অবলম্বন হওয়া উচিত নয়। তাঁর সংযোজন, রেস্তোঁরা, পানশালা ও শপিংমল খোলা। সেই জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখার কোনো মানে হয় না। এটা অজুহাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

অনেক দেশ-ই স্কুল খুলেছে

তিনি বলেন, “২০২০ সালে আমরা অনভিজ্ঞতার সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছিলাম। মহামারি মোকাবিলার প্রকৃত উপায় কী, তা আমরা জানতাম না এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, চলুন আমরা স্কুল বন্ধ করে দিই। তখন থেকে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিক থেকেই বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। আমরা করোনার একাধিক ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছি। এমন বেশ কিছু দেশ রয়েছে, যারা স্কুল খুলেছে। স্কুল খোলার সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, এত দিনে তো আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। তথ্য বলছে, তেমন কোনো জোরালো প্রভাব নেই। কোথাও কোথাও কোনো পড়ুয়া আক্রান্ত হলেও তার বিস্তার ব্যাপক নয়”।

আরও পড়তে পারেন:

তেলঙ্গনা, মহারাষ্ট্রের মতোই এলন মাস্কের টেসলাকে নিয়ে টানাটানি বাংলার মন্ত্রীর! কটাক্ষ বিজেপি-র

জীবন বাঁচিয়েছে, জীবিকা রক্ষা করেছে টিকাকরণ কর্মসূচি, বর্ষপূর্তিতে অভিবাদন প্রধানমন্ত্রীর

বাড়তি আয়ের সুযোগ! ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বাড়াল এসবিআই

অখিলেশ যাদবের পার্টিতে নাম লেখালেন যোগী সরকারের আরও এক সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী

রেললাইনের সংযোগস্থলে ফাটল, অল্পের জন্য বড়োসড়ো দুর্ঘটনা এড়াল দত্তপুকুর লোকাল

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন