korean unification

পিয়ংইয়ং: ‘সময় এসে গিয়েছে দুই দেশের এক হওয়ার ব্যাপারে কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার।’ উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে আবার এক হওয়ার ডাক দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

এমনিতে দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান দুই মেরুতে। একদিকে উত্তর কোরিয়া যখন রাশিয়া এবং চিনের মদতপ্রাপ্ত তখন দক্ষিণ আবার যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের। সাম্প্রতিক কালে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছিল। পিয়ংইয়ং-এর বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সেওলের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। পালটা দিচ্ছিল সেওলও। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে যুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন মহড়াও তারা দিয়েছে। কিন্তু এ সবের মধ্যেও দু’দেশের মানুষের মধ্যে সে ভাবে কোনো পার্থক্য নেই। আর থাকবেই না কেন, জাতে, ধর্মে সবাই যে এক।

দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনার কমানোর একটা পথ হিসেবে দেখা হচ্ছিল শীতকালীন অলিম্পিককে। এই অলিম্পিককে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও অনেকটা কমেছে। ঠিক হয়েছে একটি পতাকার নীচেই অংশগ্রহণ করবেন উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়াবিদরা। সহজ হয়ে আসা সেই পরিস্থিতিকে আরও সহজ করে দিল উত্তর কোরিয়ার এই আহবান।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভ্রমণ এবং সহযোগিতা এমন পর্যায়ে বাড়াতে হবে যাতে দু’দেশকে আবার এক করা যায়।” দুই দেশকে পুনরায় এক হওয়ার পিছনে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্ত চ্যলেঞ্জকেও ‘ধ্বংস’ করা হবে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কেসিএনএ জানিয়েছে, কোরিও পেনিনসুলায় জারি থাকা সামরিক উত্তেজনাই দুই দেশের এক হওয়ার পিছনে প্রধান বাধা। ‘বাইরের শক্তির’ সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াও দুই কোরিয়ার সম্পর্কের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, নাম না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গই এখানে টেনে এনেছে উত্তর কোরিয়া।

দু’দেশের কাছেই এই বছরটা খুব উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, “একদিকে যখন দক্ষিণ কোরিয়া এ বার শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করবে তখন উত্তর কোরিয়া এ বছর তাদের প্রতিষ্ঠা হওয়ার ৭০ বছর পালন করবে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন