পিয়ংইয়ং: কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না উত্তর কোরিয়াকে। যতই তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে যে তারা সরবে না ফের প্রমাণিত হল। শুক্রবার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি।

বৃহস্পতিবারই ক্ষেপণাস্ত্র হানায় জাপানকে সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। তার পরেই এই পরীক্ষা। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬:৫৭-এ পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। জাপান সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাংশের দ্বীপ হোক্কাইডোর ওপর দিয়ে উড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)।

দক্ষিণ কোরিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৩,৭০০ কিমির দূরত্ব অতিক্রম করেছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। সমুদ্রতল থেকে ৭৭০ কিমির সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠে সে। এর আগে গত ২৯ আগস্ট জাপানের ওপর দিয়ে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উড়িয়েছিল পিয়ংইয়ং। ২,৭০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করার পাশাপাশি ৫৬০ কিমির সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছিল সে।

কড়া নিন্দা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কড়া নিন্দা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ওপরে আরও বেশি আন্তর্জাতিক মহলের চাপ তৈরি করার কথাও বলেছেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ না করলে দেশটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার, এমনও বলেছেন তিনি।

পাশাপাশি তীব্র নিন্দা এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তরফ থেকেও। উত্তর কোরিয়াকে ‘বেপোরোয়া প্ররোচনা’ বন্ধ করার কথা বলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রক।

চিন, রাশিয়ার শরণাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়াকে থামানোর জন্য চিন এবং রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশসচিব রেক্স টিলারসন জানিয়েছেন, “উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিয়ে তার অসহিষ্ণুতার বার্তা দিক চিন এবং রাশিয়া।” প্রসঙ্গত রাশিয়া এবং চিন, উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, টিলারসন জানিয়েছেন, “নিজেদের কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন