পিয়ংইয়ং: যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া তো বটেই, এমনকি মিত্র দেশ চিনেরও নিষেধ ছিল। সেই সঙ্গে ছিল কিছু দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া মুন জা-ইনের শান্তিবার্তা। সব কিছু উপেক্ষা করে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। আবার উত্তপ্ত হল কোরীয় পেনিনসুলার পরিস্থিতি।

রবিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করে পিয়ংইয়ং। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র এ বার পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আধিকারিকদের মতে, সমুদ্রতল থেকে প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিল এই ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় সাতশো কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছিল। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে ওড়ার পর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল এবং জাপানের মাঝখানে সমুদ্রে পড়ে যায় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি।

প্রসঙ্গত বিশেষজ্ঞ মহলের আগে থেকেই ধারণা ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আঘাত হানতে পারে এমন নতুন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে চলেছে উত্তর কোরিয়া। সেটা হতে না দেওয়ার পণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তীব্র নিন্দা করেছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি  চিনও। দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের প্রেস সচিবের কথায়, “প্রেসিডেন্ট আলোচনার বার্তা দিয়েছেন কিন্তু সেটা তখনই সম্ভব যখন তাদের ওপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞার মান্যতা দেবে উত্তর কোরিয়া।” অন্য দিকে বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে চিন বলে, “নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে যে ভাবে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে উত্তর কোরিয়া, চিন তার তীব্র নিন্দা করছে।”

উল্লেখযোগ্য ভাবে উত্তর কোরিয়ার কোনো নিন্দা করেনি রাশিয়া। তাতেই যথেষ্ট ‘অবাক’ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একটি বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, “ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের থেকেও রাশিয়ার কাছে পড়েছে, অথচ তারা কেন নিন্দা করেনি, এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট খুব অবাক হয়েছেন।”

কিছুদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন তিনি কূটনৈতিক আলোচনার পথই বেছে নিতে চান, কিন্তু উত্তর কোরিয়া নিষেধাজ্ঞা না মানলে বড়ো ধরণের যুদ্ধ শুরু হয়ে পারে। অন্যদিকে শনিবারই উত্তর কোরিয়া প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল ভালো আবহে তারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। কিন্তু রবিবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যে আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলল তা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here