একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তে তোলপাড় হচ্ছে নরওয়ে। দুই-তৃতীয়াংশ নেকড়ে হত্যার প্রস্তাবে শিলমোহর দিয়েছে নরওয়ে সরকার। তাদের বক্তব্য, গবাদি পশু রক্ষা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। তাদের যুক্তি, এই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক অহিংস গবাদি পশুকে মরতে হবে। আর সঙ্গে সঙ্গে সমস্যায় পড়তে হবে চাষিদেরও।

২০০৪ ও ২০১১ সালে নরওয়ে পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মাংসাশী প্রাণী আর গবাদি পশু একসঙ্গে বসবাস করবে। সেই হিসাবেই নেকড়ে আর তৃণভোজী প্রাণীরা এক সঙ্গে বসবাস করছিল। কিন্তু নেকড়েদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতি হতে শুরু করে বাকি প্রাণীদের। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষিরা। চাষিদের বাঁচাতেই সরকার নেকড়ে-হত্যার পথ ধরেছে। স্বভাবতই বিতর্কের ঝড় উঠেছে পশুপ্রেমীদের মধ্যে।

নরওয়ের একটি জনপ্রিয় স্পোর্টস শিকার। আর এই শিকারের জন্যই ১৬টি নেকড়ে হত্যার অনুমতি চেয়ে ২০১৫ সালে ১১ হাজার মানুষ আবেদন করেছিল। এ হেন নেকড়ে কিন্তু ওই দেশে বিপন্ন পশুর তালিকায়। বর্তমানে নরওয়েতে মোট নেকড়ের সংখ্যা মাত্র ৬৮। তার দুই তৃতীয়াংশ মানে ৪৭টি নেকড়ে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা প্রায় লুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নরওয়ের ডব্লিউডব্লিউএফ এর প্রধান নিনা জেনসন জানান, “এ তো গণহত্যা। ১৯১১-এর পর এই প্রথম এত বেশি সংখ্যায় নেকড়ে হত্যার ফরমান জারি হল। যে দেশ পরিবেশ রক্ষা নিয়ে এত বড়ো বড়ো কথা বলে, সেই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাবাই যায় না।” পাশাপাশি, নরওয়ের ফ্রেন্ডস অফ দ্য আর্থ-এর পক্ষে এস এ লুন্দবার্গ এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। কেননা এই হত্যালীলায় নেকড়েদের ৬টার মধ্যে ৩টি পরিবারই মারা যাবে। তিনি বলেন, নরওয়ের লজ্জিত হওয়া উচিত। দেশের পরিবেশমন্ত্রীর কাছে এই হত্যালীলা বন্ধ করার দাবি জানাবেন তাঁরা।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here