বরখাস্ত করা যাবে হিজাব-সহ সব ধর্মীয় প্রতীকধারীকেই, বলল ইউরোপীয় আদালত

0
112

লুক্সেমবুর্গ : কোম্পানি যদি চায় তা হলে হিজাব পরা কর্মীদের বরখাস্ত করতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে শুধু ইসলাম নয় সব ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও দার্শনিক প্রতীকের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শুধুমাত্র মুসলিম কর্মচারীদের প্রতি গোটা ইউরোপ ধরে ঘটে চলা বৈষম্যমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এমনই রায় দিল ইউরোপের ন্যায় আদালত (ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস)। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে এই রায়ে মুসলিম মহিলাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বই কমবে না।

এ দিন তাদের রায়ে আদালত বলেছে, “কোম্পানি যদি তাদের কর্মচারীদের ধর্মীয় প্রতীক পরে আসার বিরুদ্ধে নিয়ম তৈরি করে, এবং সেই নিয়ম যদি কোনো কর্মচারী ভঙ্গ করে তা হলে তাঁকে বরখাস্ত করতে পারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। সে ক্ষেত্রে এটা বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে পড়বে না। কিন্তু নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র একটা ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে একজন হিজাব পরিহিতা কর্মচারীকে যদি কোম্পানি থেকে বরখাস্ত করা হয়, সে ক্ষেত্রে এটা বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে পড়বে।”

উল্লেখ্য, এক বেলজিয়ান এবং এক ফরাসি মুসলিম মহিলার দায়ের করা মামলায় এই রায় দিয়েছে আদালত। বেলজিয়ামের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতা ওই মহিলা। হিজাব পরে আসায় তাঁকে সেই হিজাব খুলে ফেলতে বলে ওই সংস্থা। হিজাব পরে আসা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে হিজাব খুলতে বলে হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের দারস্থ হন ওই মহিলা। 

এ দিন তাদের রায়ে আদালত বলে, “এই নিয়ম সব ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।”

অন্য দিকে এক ক্রেতার অভিযোগে মামলাকারী ফ্রান্সের ওই মহিলাকে নিজের হিজাব খুলে ফেলতে হয়েছিল। তাঁর সংস্থা জানিয়েছিল, ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য হিজাব খুলে ফেলা প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানায়, শুধুমাত্র একজন ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনোই পেশাগত প্রয়োজনীয়তা হতে পারে না।

ফরাসি এক ডানপন্থী নেতা এই রায়কে স্বাগত  জানিয়েছেন। কিন্তু নারী অধিকার রক্ষার্থে বিভিন্ন সংগঠনগুলির মতে এই রায়ের প্রকৃত শিকার হবেন মুসলিম মহিলারাই। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের আক্রান্তের হওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন ‘ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ’-এর এক নেতা বলেছেন, “এই রায় সাম্যবাদের অধিকারকে অনেকটা দুর্বল করে দিল।” আরও একটি মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, “বোরখা বা কোনো রকম ধর্মীয় প্রতীকের ব্যাপারে যে সব কোম্পানির নিজেদের নিয়ম করা হয়েছে, সেখানে এই রায় ঠিক আছে। কিন্তু যেখানে কোনো নিয়ম নেই, সেখানে কিন্তু মুসলিম মহিলারাই বেশি ভুক্তভোগী হবেন।”

ফরাসি মহিলার ক্ষেত্রে দেওয়া রায়কে স্বাগত জানালেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, “ধর্মনিরপেক্ষতা দেখানোর জন্য কোনো ধর্মীয় প্রতীক না পরার রায়ে আদতে সমাজ পিছিয়ে গেল।”

উল্লেখ্য, মুসলিম শরণার্থী সমস্যাকে মূল নির্বাচনী ইস্যু করে কয়েক দিন পর নির্বাচনে যাচ্ছে হল্যান্ড। অন্য দিকে ফ্রান্সে ভোট হবে কয়েক মাসের মধ্যে। সেখানেই ইস্যু এই মুসলিম শরণার্থী সমস্যা। কোর্টের এই রায় এই দুই দেশের নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here