ওপরের ছবিটা চিনতে পারা যাচ্ছে? হয়তো না। মিডিয়া  এই ছবি নিয়ে ঝড় তোলার আগেই, বিভিন্ন দৈনিকের কভার স্টোরি হওয়ার আগেই ছবিটা হারিয়ে যায়, অন্য কোনও ‘খবর’কে জায়গা করে দিতে। অতএব ছবিটা  অচেনা, তাই অচেনা যন্ত্রণাটাও। যে চিৎকার, যে কান্না ধরা থাকল না ফ্রেমে, সবাই ভুলে গেল বড়ো সহজে। কিন্তু এই ‘ভুলে থাকা’কে ধাক্কা দিতে ইউনিসেফ প্রকাশ করেছে তাদের প্রতিবেদন, যার সারসংক্ষেপ হল, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অশান্তিু, জলবায়ুর পরিবর্তন অথবা যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি শিশু ঘরছাড়া অথবা দেশছাড়া হয়েছে।

সমুদ্রের ধারে পড়ে থাকা আয়লানের নিথর দেহটা দেখে সেদিন কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর পাথর হয়ে থাকা ওমরান দাকনিশের মুখটা আমাদের থমকে দিয়েছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু আয়লান বা দাকনিশ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমাদের চারপাশের, নিজের দেশের, প্রতিবেশী দেশের অথবা পৃথিবীর  সম্পূর্ণ অন্য প্রান্তের যে কোনো শিশুর প্রতি আমাদের সমান সংবেদনশীল হওয়া দরকার।

বিশ্বের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ শিশু। অথচ সারা পৃথিবীর ঘরছাড়া মানুষের অর্ধেক শিশু, এমনই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে। জেনিভায় ইউনিসেফের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) টেড চাইবান বলেছেন, এদের জন্য শিক্ষা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু পরিষেবার ব্যবস্থা থাকা উচিত।congo

সমীক্ষা থেকে উঠে আসা পরিসংখ্যান বলছে প্রায় ২.৮ কোটি শিশু তার নিজের জায়গা থেকে উৎখাত হয়েছে শুধুমাত্র হিংসা আর দ্বন্দ্বের জেরে। এর মধ্যে ১ কোটি শিশু উদ্বাস্তু। আরও ভয়াবহ তথ্যটি দেওয়া এখনও বাকি। দশ লক্ষের কাছাকাছি শিশুর এখনও জোটেনি যথাযথ আশ্রয়। গণহিংসার শিকার হয়ে ঘরছাড়া শিশুর সংখ্যাও ২ কোটির কাছাকাছি।  সারা বিশ্বের বাস্তুহারা শিশুদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ শিশু এসেছে সিরিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে। গত এক দশকে বাস্তুহারা শিশুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৭৮টি দেশ থেকে একা পালিয়ে আসা ১ লক্ষ শিশু আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছে। এই সংখ্যাটা ২০১৪ সালের তুলনায় তিন গুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here