david goodall

ওয়েবডেস্ক: বয়স হয়েছিল অনেক, শরীরটাও আর দিচ্ছিল না। অথচ সে ভাবে কোনো জটিল রোগও তাঁর শরীরে ছিল না যাতে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু তিনি যে ‘মুক্তি’ চাইছিলেন। অবশেষে নিজের জীবন শেষ করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রবীণতম বিজ্ঞানী ১০৪ বছর বয়সি ডেভিড গুডঅল।

ইচ্ছেমৃত্যু চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় ইচ্ছেমৃত্যুর কোনো আইন নেই। অগত্যা নিজের দেশ থেকে মৃত্যুর জন্য পরের দেশে যেতে হয়েছিল তাঁকে। বুধবার স্যুইৎজারল্যান্ডে মৃত্যু বরণ করেন তিনি। এক কথায় বলা চলে, আইনসিদ্ধ আত্মহত্যাই করলেন তিনি।

মৃত্যুর সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশেই ছিলেন। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ নৈশভোজে প্রিয় মাছ, চিপস এবং চিজকেক খেয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর প্রিয় গানও শোনানো হয়েছিল তাঁকে। বিটোফেনের সুরমূর্ছনা। তার আগে ওই দিন সকালে নিজের তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে স্থানীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরে বেড়িয়েছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহেই পার্থের নিজের বাসভবন ছাড়েন  গুডঅল। সেখান থেকে ফ্রান্সে কিছু আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করে স্যুইৎজারল্যান্ডে এসে পৌঁছোন তিনি। তবে তাঁর পার্থ ছাড়া নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। একটা সময়ে পার্থের চিকিৎসকরা তাঁর যাত্রা আটকানোর জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন।

মৃত্যুর আগে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়াতেই মৃত্যু হলে সব থেকে ভালো হত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে মৃত্যুরও অধিকার বয়স্ক মানুষের থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার মতো বয়সি মানুষের মৃত্যুর সময়কাল ঠিক করার সমস্ত অধিকার থাকা উচিত।” তিনি বলেন, “আমি আর নিজের জীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই না। আমাকে যে নিজের জীবন শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে আমি সেই জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”

তবে বিজ্ঞানীর এই সিদ্ধান্তকে এখনও মেনে নিতে পারছে না অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। “একশো বছরের এক ব্যক্তির আত্মহত্যাকে উদযাপন করা হচ্ছে,” এই ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডঃ মাইকেল গ্যানন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন