বেজিং: মিত্র দেশ হওয়ার সুবাদে উত্তর কোরিয়াকে শান্ত করার জন্য চিনের ওপরেই ভরসা রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু চিন এ বার পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে জানিয়ে দিল আর একটা পরমাণু পরীক্ষা করলেই দু’দেশের সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছবে, যে সেখান থেকে আরও ফিরে আসা সম্ভব নয়।

চিনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইম্‌সে বলা হয়েছে, “পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে মুরগির খেলা এই মুহূর্তে চরম আকার ধারণ করেছে।” চিন মেনে নিয়েছে যে এই পরিস্থিতিতে তাদের খুব একটা কিছু করার নেই।সেই সঙ্গে চিন জানিয়েছে, “উত্তর কোরিয়া যদি তাদের প্রস্তাবিত ষষ্ট পরমাণু পরীক্ষাটি করে তা হলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় যাবে যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব হবে না।”

মুখপত্রে দাবি করা হয়েছে, “এর পরিণতি সব অংশীদারকেই বহন করতে হবে, তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষতি হবে সব থেমে বেশি।”

প্রসঙ্গত উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিংপিং-এর মধ্যে এক প্রস্থ আলোচনা হওয়ার পরেই চিনের তরফ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

উল্লেখ্য রবিবার টুইটারে ট্রাম্প জানান, “উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক লাইফলাইন হল চিন। যদিও কোনো কিছুই সহজ নয়, কিন্তু চিন যদি চায় উত্তর কোরিয়ার সমস্যার সমাধান করতে, ওরাই পারবে।”

উত্তর কোরিয়ার খাদ্য, ব্যবসা এবং তৈলসামগ্রীর প্রধান উৎস চিন। সেই জন্য উত্তর কোরিয়াকে দমানোর মূল দায়িত্ব এখন চিনের ঘাড়েই এসে পড়েছে।

কোরীয় পেনিনসুলার পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সব পক্ষের কাছে দাবি করে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাং বলেছেন, “এই মুহূর্তে কোরীয় পেনিনসুলার পরিস্থিতি খুবই জটিল এবং সংবেদনশীল। পরিস্থিতি দ্রুত সামলানোর জন্য সব পক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি আমরা।”

যুদ্ধের দামামা? দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌছল মার্কিন সাবমেরিন

উত্তর কোরিয়ার ষষ্ট পরমাণু পরীক্ষার হুমকির মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে পৌঁছল ক্ষেপণাস্ত্র-বাহক মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস মিশিগান।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দরে নোঙর করেছে ১৫৪টি তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সমেত ইউএসএস মিশিগান। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এটা রুটিনমাফিক করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে টোকিওয় উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here