বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইমরান প্রধানমন্ত্রী হলে প্রকৃত ক্ষমতা থাকবে পাক সেনার ওপরে।

ওয়েবডেস্ক: ৭০ বছরের স্বাধীন দেশের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দু’বার হল যখন পাকিস্তানের ক্ষমতা এক গণতান্ত্রিক সরকারের হাত থেকে অন্য গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে যাচ্ছে। কিন্তু এর ফলে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের কোনো উন্নতি কি হবে?

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা কয়েক জন আধিকারিক এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি হোক পাকিস্তানে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে সেই সেনার ওপরেই ভরসা করতে হবে।

পাকিস্তানের নির্বাচনের ফলে ভারতেরও যথেষ্ট নজর রয়েছে। এই মুহূর্তে ইমরান খানের পিটিআই অনেকটা এগিয়ে গেলেও, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আগেই হয়ত থেমে যাবেন তিনি। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পিএমএল (এন) এবং পিপিপি।

আরও পড়ুন: ইমরান এগোতেই কারচুপির অভিযোগে সরগরম পাকিস্তান, খণ্ডন কমিশনের

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতিতে এখনও শিক্ষানবিশ ইমরান। তাঁর ওপরে হাত রয়েছে সেনার। তাঁকে সমর্থন করছে কট্টরপন্থীদের সংগঠনও। এই আবহে ইমরান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও কিছুটা খারাপ হতে পারে। তাঁদের মতে, ভারতের ব্যাপারে অনেক বেশি নমনীয় পিএমএল (এন)-এর শেহবাজ শরিফ।

অতীতের চার-পাঁচ বছরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিতে বারবার চেষ্টা করেছে পিএমএল (এন), কিন্তু বারবার তাদের পদক্ষেপে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনা।

পঠানকোট হামলার পরে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে ক্রমশ খারাপ হয়ে গিয়েছে। ২০১৬-এর উরি হামলার পরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল ভারতীয় সেনা। তার পরে কাশ্মীর সীমান্তে দুই সেনার গোলাগুলি বিনিময়ের ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নজর রাখা আরও এক বিশেষজ্ঞের কথায়, “সব সময়ে যে সব কিছু স্ক্রিপ্ট মোতাবেক হবেই তার কোনো মানে নেই। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক মাঝেমধ্যেই স্ক্রিপ্টের বাইরে চলে গিয়েছে।”

পাকিস্তানে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত টিসিএ রাঘবনের মতে, “আগে আমরা দেখি কে সরকার গড়তে চলেছে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণে সেই দলের কতটা প্রকৃত ক্ষমতা রয়েছে। তার পরে না হয় ভাবা যাবে ইসলামাবাদ কেমন সম্পর্ক চায় নয়াদিল্লির সঙ্গে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here