ইসলামাবাদ : বহুপ্রতীক্ষিত ‘হিন্দু বিবাহ বিল ২০১৭’ পাশ হল পাকিস্তানের জাতীয় আইনসভায়। বৃহস্পতিবার এই বিল পাশ করা হয়। এর পর শুক্রবার বিলটি পাক প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়। এ দিনই বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার কথা।

এত দিন পর্যন্ত গোটা দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিবাহ আইন ছিল না। ফলে বিবাহকেন্দ্রিক নানা জটিলতার সমাধানের পথ থাকত না। বিলটি আইনে পরিণত হলে এখন থেকে মুসলিম বিবাহ আইন ‘নিকাহনামা’-র মতোই ‘শাদি পারথ’ নামের একটি প্রথা সারা দেশে কার্যকর হবে। এর আগে প্রাদেশিক ভাবে কয়েকটি এলাকায় ‘হিন্দু বিবাহ আইন’ প্রয়োগ হয়ে এসেছে। এটা হিন্দু মহিলাদের বিবাহের একটা তথ্যপ্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। 

এই বিলটি পাশ হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। এটি ছিল সংশোধনী বিল। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এটি এক বার পাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে বিলটির বয়ানের কিছু রদ বদল করা হয়। সেই কারণেই দ্বিতীয়বার পাশ করা হল জাতীয় আইনসভায়।

বিলের ‘তফশিল এ’-তে ‘শাদি পারথ’-এর কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিয়ের রেজিস্ট্রির সময়ে পুরোহিত আর সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে স্বাক্ষর করতে হবে। এই ফর্মটিতে আটটি স্তম্ভ আছে। তাতে খুব সাধারণ কিছু তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রথমেই থাকছে বিয়ের তারিখ। তার পর থাকছে ইউনিয়ন কাউন্সিল, তফশিল, শহর, জেলার নাম। 

এর পর থাকছে পাত্রপাত্রীর পরিচয়। তাঁদের নাম, বাবার নাম, জন্ম তারিখ, বিয়ের তারিখ ও জায়গার নাম, অস্থায়ী ও স্থায়ী ঠিকানা। এ ছাড়াও পাত্রপাত্রীর বৈবাহিক অবস্থার বিবরণ দিতে হবে। তাতে অবিবাহিত, বিবাহবিচ্ছেদ, বৈধব্য, তাঁদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। তবে পাত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর মায়ের নাম দেওয়াটা জরুরি।পাত্রপাত্রীকে ওই ফর্মে স্বাক্ষর করতে হবে। তা ছাড়াও স্বাক্ষর করতে হবে এক জন সাক্ষী আর রেজিস্ট্রারকেও।  

জাতীয় আইনসভায় বিলটি পেশ করেছিলেন মানবাধিকার মন্ত্রী কামরান মাইকেল। তিনি বলেন, এর আগে হিন্দু বিবাহের কোনো আইন ছিল না। সরকার মানবাধিকার সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। আর অবশ্যই মহিলা আর সংখ্যালঘুদের অধিকার।

এই আইনবলে হিন্দু বিবাহ যেমন বৈধতা পাবে, তেমনই বিবাহ বিচ্ছেদ বা যে কোনো সমস্যায় তা সমান ভাবে তথ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সব থেকে বড়ো কথা শিশুর জন্মের বৈধতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এটা একটা বড়ো হাতিয়ার। 

বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বালুচিস্তান, পঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া-এ এটি সার্বিকভাবে মেনে চলা হবে। সিন্ধু প্রদেশে ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব হিন্দু বিবাহ আইন মেনে চলা হয়।   

ছবি সৌজন্যে ঃ ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর ডিপ্লোমেটিক স্টাডিজ

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন