ইসলামাবাদ: ‘পানামা পেপার’-এ যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তাঁর পরিবার জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখতে যৌথ তদন্ত কমিটি গড়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লন্ডনে বেআইনি উপায়ে সম্পত্তি কেনার অভিযোগ ওঠে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে শরিফকে।

সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ৩-২ রায়ে তদন্ত কমিটি গড়ার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি আসিফ সইদ খোসা এবং বিচারপতি গুলজার আহমেদ বিরুদ্ধ মত পোষণ করে বলেন, নওয়াজ শরিফকে এখনই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু অপর তিন জন বিচারপতি ইজাজ আফজল খান, বিচারপতি আজমত সইদ এবং বিচারপতি ইজাজুল আহসান তাঁদের রায়ে বলেন, যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় শরিফকে অপরাধী ঘোষণা করে এখনই পদ থেকে সরানো যায় না। শেষ পর্যন্ত ৩-২ রায়ে শরিফের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গড়ার রায় দেওয়া হয়।

নওয়াজ শরিফের মেয়ে মারিয়াম এবং দুই ছেলে হুসেন এবং হাসানের বিরুদ্ধে বিদেশি সংস্থার সাহায্য নিয়ে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, লন্ডনের যাবতীয় সম্পত্তি আইনি পথেই কেনা হয়েছে। ২০১৬-র শেষ দিকে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান প্রতিবাদস্বরূপ রাস্তায় নামার হুমকি দিলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে রাজি হয় শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের রায়ের প্রেক্ষিতে নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ দাবি করেছেন ইমরান। তাঁর প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে যখন একটা অপরাধের তদন্ত শুরু হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার কী নৈতিক অধিকার শরিফের আছে? তিনি বলেন, “যৌথ কমিটির তদন্তে তিনি যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তা হলে ফের পদে ফিরে আসতে পারেন।”

২০১৬-র প্রথম দিকে ‘পানামা পেপার’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় জনসমক্ষে চলে আসে অনেক গোপন তথ্য। সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদ, প্রথম শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের নিজের দেশের বাইরে ব্যবসা সংক্রান্ত প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ গোপন কাগজ ফাঁস হওয়ায় উত্তাল হয় আন্তর্জাতিক মহল।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here