polar bear

ওয়েবডেস্ক: জীবজন্তুদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু বিষয় নয়। তাদের আজব কাণ্ডকারখানা দেখার জন্য লম্বা লাইন পড়ে চিড়িয়াখানায়, পৃথিবীর সব প্রান্তেই। তাছাড়া প্রযুক্তির কল্যাণে হামেশাই ভাইরাল হয় তাদের নানা কীর্তির ভিডিও। কিন্তু এই বিশেষ মেরু ভল্লুকটির কার্যকলাপ ভাইরাল হল অন্য কারণে। খাবারের খোঁজে তার দুর্দশা যে জড়িয়ে গিয়েছে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার বিষয়টির সঙ্গে।

সম্প্রতি বিখ্যাত ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার পল নিকলেন তাঁর দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন মেরু প্রদেশে। স্পষ্ট করে বললে কানাডার বাফিন দ্বীপে। সেখানেই এই মেরু ভল্লুকটি দৃষ্টি কেড়ে নেয় তাঁর।

মেরু ভল্লুক দর্শন, সত্যি বলতে কী, নিকলেনের জীবনে নতুন কিছু নয়। খুব অল্প বয়স থেকেই কানাডার উত্তর প্রান্তে বাস করার সুবাদে মেরু ভল্লুকদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা। “অন্তত ৩০০০ মেরু ভল্লুক দেখেছি আমি। তাদের ছবি তুলেছি, ভিডিও করেছি। কিন্তু একে দেখে আমার চোখে জল চলে এল”, জানিয়েছেন নিকলেন।

ভিডিওটা ভাল করে দেখলে এই বিশেষ মেরু ভল্লুকটি সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। কেন না, ভল্লুক বললেই যে আয়তনের কথা আমাদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে, তার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। বরং বিস্মিত করবে এর হাড় জিরজিরে চেহারা। স্বাভাবিক, অনেক অনেক দিন যে ভালো করে খেতে পায়নি সে।

শুধু তা-ই নয়! খেয়াল করলে দেখা যাবে, অনাহারে রীতিমতো দুর্বল হয়ে পড়েছে সে। এমনকী, তার পায়ের জোর কমে এসেছে। পিছনের একটি পা কোনো রকমে মাটিতে ঘষে ঘষে হাঁটছে সে! এভাবেই এক সময়ে সে পৌঁছে যাচ্ছে একটি আস্তাকুঁড়ের কাছে। ঘেঁটে দেখছে, সেখানে কোনো খাবার জোটে কি না! না পেয়ে আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে সে বসে পড়ছে মাটিতে।

নিকলেন জানিয়েছেন, অনাহারে থাকাটা মেরু ভল্লুকের জগতে নতুন কিছু নয়। গরমকালে যখন সাগরের জমাট বাঁধা বরফ গলে যায়, তখন স্বাভাবিক ভাবেই তারা সিল মাছ ধরতে পারে না। সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় ফের শীত এলে। কিন্তু এখানে ব্যাপারটি গুরুতর। কেন না, শীতকালেই এই ভল্লুকটি পড়েছে অনাহারের কবলে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে গলে যাচ্ছে বরফ, ফলে টান পড়েছে তার খাদ্যের জোগানে।

ভিডিওটি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ভল্লুকটিকে কি সাহায্য করতে পারতেন না নিকলেন? এই যুক্তিতে তাঁকে পড়তে হয়েছে সমালোচনার মুখে। “আমি তো আর পকেটে করে টাঙ্কুলাইজার বা সিল মাছ নিয়ে ঘুরে বেড়াই না! সেক্ষেত্রে কী করে ভল্লুকটিকে সাহায্য করতাম? তাছাড়া কানাডার বন্য প্রাণী আইন অনুযায়ী মেরু ভল্লুকদের খাবার দেওয়াও তো বারণ”, আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেছেন তিনি।

কিন্তু সব ছাপিয়ে উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে এখনই বিপদে পড়েছে জীবজন্তুরা। এর পর কি তাহলে দুর্যোগ নেমে আসবে মানুষের জগতেও? শেষের সেই ভয়ঙ্কর দিন কি তাহলে আগতপ্রায়?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here