হোয়াইট হাউজের সামনে ফের কাঁদানে গ্যাস পুলিশের, সেনা নামানোর হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

0

নিউ ইয়র্ক: হোয়াইট হাউজের (White House) সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাস আর রবার বুলেট ফাটাল পুলিশ। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা রয়টার্সের এক সাংবাদিকের মতে, ওই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণই ছিল। এ দিকে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে গোটা দেশেই সেনা নামানোর হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।

হোয়াইট হাউজের উলটো দিকেই লাফায়েট পার্ক। সেখানেই জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন প্রতিবাদীরা। রয়টার্সের চিত্রসাংবাদিক জোনাথান আর্ন্সট জানান, কাঁদানে গ্যাস আর রবার বুলেট ফাটিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

ঠিক একই সময়ে হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অবিলম্বে’ এই বিক্ষোভ থামিয়ে দেবেন। বিক্ষোভ দমন করার জন্য গোটা দেশে সেনা নামানোর হুমকিও দেন তিনি। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা যদি ন্যাশনাল গার্ডকে পথে না নামান, তখনই সেনাকে ডাকবেন বলে জানান প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, “মানুষের প্রাণ এবং সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য গভর্নররা যদি ন্যাশনাল গার্ডকে এখনই না ডাকেন, তা হলে আমি সেনা ডাকব আর এখুনি সব কিছুর সমাধান করে দেব।”

উল্লেখ্য, মিনেপলিসের (Minneapolis) এক পুলিশ অফিসার প্রায় ন’মিনিট কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু চেপে ধরে থাকে। এর জেরে পুলিশি হেফাজতে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দেশ জুড়ে শুরু হয়ে যায় ব্যাপক বিক্ষোভ। কৃষ্ণাঙ্গদের পাশাপাশি বহু শ্বেতাঙ্গও এই বিক্ষোভে যোগ দেন।   

ক্রমে এই বিক্ষোভ হিংসাত্মক চেহারা নেয়। বিক্ষোভ ক্রমশ জোরদার হতেই সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল ব্রাউজার শহরে কার্ফু জারি করেন। সেই সঙ্গে আরও চল্লিশটি শহরে কার্ফু জারি হয়। এরই মধ্যে রবিবার বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউসের সামনে চলে এলে প্রেসিডেন্টকে এক ঘন্টার জন্য মাটির নীচে বাংকারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের (Martin Luther King Jr) খুনের পর গোটা দেশে যে ভাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, এ বারের পরিস্থিতি ঠিক সে রকমই বলে জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।

তবে হোয়াইট হাউসে যেখানে পুলিশি অত্যাচারের ছবি ধরা পড়ছে, সেখানে অন্য ছবিও দেখা যাচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডের (George Floyd) মৃত্যুতে সংহতি প্রকাশও করছে পুলিশ। সোমবার এমনই বিরল দৃশ্য দেখল মিয়ামি।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার মিয়ামিতে বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই সমাবেশেই প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য হাঁটু গেড়ে বসে পুলিশ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ক্রমশ এগিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লয়েডের মৃত্যু দেশের মানুষকে রাজনীতিগত এবং বর্ণগত দিক থেকে দু’ ভাগ করে দিয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন