ক্যাথলিক সমাজের অনেক রক্ষণশীলতাকেই যে ফুৎকারে উড়িয়ে দেন এই উদারচেতা পোপ, তা এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। এমনকি, বিবাহবহির্ভূত যৌনতা, যা কি না ব্যভিচার বলেই গণ্য করে গোঁড়া ক্যাথলিক সমাজ, তার সমর্থনেও একদা মুখ খুলেছিলেন পোপ। জানিয়েছিলেন, যুগের নীতি মেনে এ বার কিছু নিয়ম-কানুন বদলের সময় এসেছে। এখানেই থেমে না থেকে নতুন নিয়ম নিয়ে একটি বইও লিখে ফেলেছিলেন তিনি। wedding আর এ বার গির্জার বাইরে বিয়ে, যা কি না ক্যাথলিক সমাজের মতে বৈধ নয়, তাকেও স্বীকৃতি দিলেন পোপ ফ্রান্সিস। জানা গিয়েছে, নিজস্ব বিমানে তিনি যাচ্ছিলেন চিলির উপর দিয়ে। সে সময় ওই বিমানযাত্রায় কর্মরত ছিলেন পলা আর কার্লো। তাঁরা পোপের সঙ্গে যখন একটি ছবি তোলার অনুরোধ জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় সেখান থেকেই। পলা আর কার্লো যখন পোপের কাছে গিয়েছিলেন, তখন প্রথমেই জানতে চান পোপ- “তোমরা কি বিবাহিত?” উত্তরে পলা আর কার্লো এক এক করে খুলে বলে সব কথা। শোনা মাত্রই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি পোপ। জানান, তিনি এখনই তাঁদের বিয়ে দিতে চান। “কিন্তু তার জন্য তোমরা কি প্রস্তুত?” পোপের এই প্রশ্নের উত্তরে সানন্দ সম্মতি ছাড়া আর কী বা প্রকাশ করার ছিল দম্পতির! এর পর শুরু হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। পোপ প্রথমে আশীর্বাণীতে পলা আর কার্লোর বিয়ের আংটিকে পবিত্র করে তোলেন। এর পর তিনি কার্লোর তরফ থেকে একজন সাক্ষী চান কাগজে-কলমে সই-সাবুদের জন্য। কার্লো ডেকে নেন তাঁর আর এক বসকে। অন্য বস তাঁর আর কেউই নন, খোদ পলা-ই! এই ঊর্ধ্বতন-অধস্তন নিয়ম অক্ষুণ্ণ রেখেই কাজ করেন তাঁরা, অটুট রাখেন দাম্পত্যও। marriage ধীরে ধীরে একটা সাদা কাগজে পোপ নিজের হাতে সেই বিয়ে যে বৈধ, সেই কথা লিখে দেন। পোপের সেই নির্দেশনামায় সই করেন একে একে পলা, কার্লো আর সাক্ষীরা। মন্ত্রোচ্চারণে, আশীর্বাদে সমৃদ্ধ হয় তাঁদের জীবন। বিয়ের ঠিক পরেই কিন্তু পোপ কার্লোর সঙ্গে রসিকতা করতে ছাড়েননি। “এখনও কি পলা তোমার বস?” জানতে চান তিনি! উত্তরে অট্টহাসিতে ফেটে পড়া আর হ্যাঁ বলা ছাড়া কিছু করারও ছিল না কার্লোর!]]>

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.