কোভিড পরিস্থিতিতে বেড়েছে বেকারত্ব, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য, বলছে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিশ্বে করোনা-পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই অতিমারি দক্ষিণ এশিয়ায় এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। যে অঞ্চল তার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিচিত হয়ে উঠছিল, সেই অঞ্চল ২০২০-তে সব চেয়ে বাজে ফল করল। এক রিপোর্টে রাষ্ট্রপুঞ্জ (United Nations) এ কথা বলেছে। ওই অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে যে উন্নয়ন চলছে, তাকে নস্যাৎ করে দিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব (unemployment), কমেছে আয়। এ ব্যাপারে ওই রিপোর্টে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত বিভাগের ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-তে করোনা অতিমারির (coronavirus pandemic) জন্য বেকারত্বের উচ্চ হার ২০২১-এও অব্যাহত থাকবে।

Loading videos...

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরি হারানোর ফলে বিশ্ব জুড়ে ২২৭ কোটি শ্রমিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আয়ের পথে ফিরতে, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাসমূহ ফিরিয়ে দিতে এবং শিক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক সমতার লক্ষ্যে পৌঁছোতে ভারত-সহ যে সব দেশে অসংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা বেশি, তাদের শ্রম-বাজার ঠিকঠাক ধরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টের আগে প্রকাশিত হয়েছে আইএলও-র (আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, ILO) একটি রিপোর্ট। সারা বিশ্বে কাজের সময় এবং আয়ে কতটা পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা দেখানো হয়েছে ওই রিপোর্টে এবং এই বিষয়দু’টি সমাধানের জন্য জোরদার প্রচেষ্টা চালাতে দেশগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে। আইএলও-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-এ দক্ষিণ এশিয়ায় ৪.৯ শতাংশ কাজের সময় নষ্ট হতে পারে। এর অর্থ হল, লক্ষ লক্ষ লোক কাজ হারাবেন, এমনকি সংখ্যাটা ৩১০ লক্ষ পর্যন্ত উঠতে পারে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হতে পারে।

কাজের সময় কতটা কমেছে সেটা ধরে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা হিসাব করে আইএলও। আইএলও হিসাব করে দেখিয়েছে, ২০২০-তে সারা বিশ্বে ২৫ কোটি ৫০ লক্ষ লোক কাজ হারিয়েছেন, তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াতেই কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি।

রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এই সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলির শ্রম বাজার ব্যাপক ভাবে ধসিয়ে দিয়েছে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেকারত্বের হার দ্রুত রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল – নাইজেরিয়া ২৭%, ভারত ২৩%, কোলোম্বিয়া ২১%, ফিলিপাইনস ১৭% এবং আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল, চিলে, সৌদি আরব ও তুরস্ক ১৩%-এর বেশি।”

আরও পড়ুন: দেশের দুই তৃতীয়াংশ সক্রিয় কোভিডরোগী কেরল, মহারাষ্ট্রে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন