আসুনসিয়োন (পারাগুয়ে): বিক্ষোভকারীদের রোষে পারাগুয়ের পার্লামেন্ট। পারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের আনা সংবিধান সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে পার্লামেন্টে আগুন লাগিয়ে দিল বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, পারাগুয়ের দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট ওরাসিও কার্তেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০১৮-তে। কিন্তু তার পর যাতে তিনি মসনদে থেকে যান সেই জন্য সংবিধান সংশোধনী বিলটি এনেছেন। ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্টপন্থী সেনেটরদের (পার্লামেন্টের সদস্য) সমর্থনে বিলটি পাশ হয়ে যায়। 

আঠাশ বছর আগে একনায়কতন্ত্র কাটিয়ে উঠেছে পারাগুয়ে। ১৯৫৪ থেকে ১৯৮৯, এই ৩৫ বছর টানা শাসন করে গিয়েছেন আলফ্রেদো স্ত্রোয়েসনের। বিক্ষোভকারীদের মতে, দেশকে ফের একনায়ক শাসনের পথে নিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ‘একনায়কতন্ত্র আর নয়’ এই স্লোগান দিতে দিতে পার্লামেন্টে ঢুকে যান বিক্ষোভকারী জনতা। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হয়, এর ফলে আহত হয় তিরিশ জন বিক্ষোভকারী।

যে সেনেটররা সংশোধনীতে সমর্থন করেছিলেন তাঁদের অফিস তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। পার্লামেন্ট ভবনের অধিকাংশ অংশেই আগুন লেগে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। 

উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনী নিয়ে শুক্রবার ভোটাভুটি হয় পার্লামেন্টে। এই বিলের প্রথম থেকেই বিরোধিতা করছে পারাগুয়ের বিরোধী দল লিবারাল পার্টি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময়ে পুলিশের ছোড়া রবার বুলেটে আহত হন স্পিকার রোবের্তো আসেভেদো এবং আরও দুই সেনেটর। প্রসঙ্গত এই সংশোধনীর বিরোধিতা করে পারাগুয়ের সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন স্পিকার।

পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিলটি পাশ হয়ে যাওয়ায়, শনিবার বিলটি নিয়ে নিম্নকক্ষে ভোটাভুটির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ভোটাভুটি এখন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনই জানান নিম্নকক্ষের সভাপতি উগো বেলাজগেজ।

দেশে যাতে একনায়ক শাসন ফিরে না আসে সেই জন্য ১৯৯২-এ প্রেসিডেন্টের পুনঃনির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংবিধান সংশোধন করেছিল পারাগুয়ে। কিন্তু নিজেকে আবার প্রেসিডেন্ট পদে দেখার জন্য সংবিধানে সংশোধন আনেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। বিরোধীদের দাবি, এই বিল আইনে পরিণত হলে তা হবে এক ধরনের ‘পার্লামেন্টরি অভ্যুথান’।

তবে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক হাত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট কার্তেস। তাঁর দাবি, “গণতন্ত্র কখনও হিংসা দিয়ে জেতা যায় না। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ দেশে বাস করি। আমাদের শান্তি নষ্ট করার জন্য বর্বরদের হাতে দেশকে দিয়ে যেতে পারি না।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here