trump in puerto rico

সান খুয়ান: এটা স্বাধীন দেশ নয়। মার্কিন শাসন চলে এখানে। গত মাসে পরপর দু’টো হারিকেন ইর্মা এবং মারিয়ার তাণ্ডবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের বসবাসকারী এই দ্বীপটি। এখানকার ৯০ শতাংশ বাড়িই আর আস্ত নেই। পুরো দ্বীপ বিদ্যুৎবিহীন। আধিকারিকদের মতে, ছ’সাত মাসের আগে বিদ্যুৎসংযোগ স্বাভাবিক করার আশাও নেই। এই আবহেই এই দ্বীপ পরিদর্শন করতে এলেন তিনি। এবং বলে গেলেন হারিকেনে দ্বীপে মৃত্যুর সংখ্যা কম হওয়ার নাগরিকদের গর্ব করা উচিত।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বীপটি হল পুয়ের্তো রিকো। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুয়ের্তো রিকোয় তাণ্ডব চালিয়েছিল ক্যাটেগরি ৫-এর ইর্মা। আতলান্তিকের ইতিহাসে সব থেকে ভয়ঙ্করতম ঝড়ে তছনছ হয় দ্বীপটি। ভেঙে পড়ে বাড়িঘর, বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে অধিকাংশ অঞ্চল। তবে ইর্মা যে জায়গাকে রেহাই দিয়েছিল, সেই জায়গাও তছনছ করে চলে যায় ক্যাটেগরি ৪-এর হারিকেন মারিয়া।

এখন দ্বীপটি যে হেতু মার্কিন প্রশাসনের আওতায় তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের একবার তো পরিদর্শন করা উচিত! বহু কাকুতিমিনতির পর অবশেষে পরিদর্শন করলেন ট্রাম্প এবং পুয়ের্তো রিকোর নাগরিকদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে এলেন তিনি।

পুয়ের্তো রিকো পরিদর্শন করার পর গভর্নর রিকার্দো রোসেয়োর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, “সব মৃত্যুই দুঃখের। কিন্তু যদি ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা হলে তো মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। সেখানে শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এখন মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ১৭ – আপনাদের তো গর্ব করা উচিত!” উল্লেখ্য মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা ট্রাম্পের কাছে নেই। সেই দ্বীপে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৪।

পুয়ের্তো রিকোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বেশি খরচা হয়ে যাচ্ছে সে কথাও কোনো রাখঢাক না রেখেই বলে ফেলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি এই ‘ভ্রমণ’ যে তিনি খুব ‘উপভোগ’ করেছেন সে কথাও বলতে ভোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর কিছু দিন আগে অবশ্য আরও এক বার নিজের অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত শনিবার পুয়ের্তো রিকোর দুর্দশার কথা নিজের টুইটারে ফুটিয়ে তুলেছিলেন রাজধানী সান খুয়ানের মেয়র কারমেন ইউলিন ক্রুজ। তিনি বলেছিলেন, “এমন দিনও দেখতে হবে ভাবিনি। আমি ভিক্ষে করছি। আমরা মরতে বসেছি।” ট্রাম্পের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি আপনার কাছে আবেদন করছি। এখানে আসুন আর উদ্ধারকাজে হাত লাগান। সেটা যদি আপনি না করেন তা হলে বিশ্ব দেখবে আমাদের কী ভাবে আমেরিকা। দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকও নয়, আমাদের পশু ভাবা হয়।”

মেয়রের এই দাবি অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন শুধুমাত্র গুজব রটানো এবং তাঁকে নীচে দেখানোর জন্যই এ রকম মন্তব্য করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here