ওয়াশিংটন: ঘটনাটা নিছকই কাকতালীয়। অস্ট্রেলীয় ওপেনের ফাইনালে যখন দুই বোনের মুখোমুখি হওয়ার খবরে উত্তাল হচ্ছে টেনিস দুনিয়া, মহাকাশ বিজ্ঞানেও আলোড়ন ফেললেন দুই ভাই। স্কট এবং মার্ক কেলি।  সব চেয়ে বেশি দিন মহাকাশে থেকে রেকর্ড গড়ে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়েছিলেন স্কট কেলি। একটানা ৩৪০ দিন মহাকাশে ছিলেন স্কট। সব মিলিয়ে ৫২০ দিন। আর স্কটের যমজ ভাই মার্ক ছিলেন মোট ৫৪ দিন। এই দুই মহাকাশচারীর শরীরের গঠনগত পরিবর্তন তুলনা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের অনুমান, বেশি দিন মহাকাশে থাকাকালীন স্কটের শরীরের জিনের গঠন অনেক পালটে গিয়েছে। 

দুই ভাইয়ের শরীরের নানা অংশে, মূলত অন্ত্রের ক্রোমোজোমীয় গঠনে অমিল খুঁজে পেয়েছেন সব গবেষকই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, স্কট যে হেতু মার্কের তুলনায় অনেক বেশি সময় মহাকাশে থেকেছেন, তাই তাঁর শরীরে এই পরিবর্তন এসেছে। মহাকাশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটতে বাধ্য। তবে স্কট এবং মার্কের মধ্যে যে অমিল লক্ষ করা গিয়েছে, তা কতটা শারীরবৃত্তীয়, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন গবেষকরা। 

গবেষণার ফল বলছে, দুই ভাইয়ের ক্রোমোজোমের একদম শেষাংশে টেলোমিয়ারের গঠনে যে পার্থক্য দেখা গিয়েছে, তা যমজদের মধ্যে থাকা স্বাভাবিক নয়। অতএব ধরে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ দিন মহাকাশে থাকার সময়ে স্কটের  দেহের টেলোমিয়ার মার্কের তুলনায় বেশ খানিকটা লম্বা হয়ে গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, পৃথিবীর মাটিতে পা রাখার পর থেকে আবার আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে স্কট কেলির দেহের ক্রোমোজোমের গঠন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here