ওয়েবডেস্ক: অথৈ নীল জলের কিনারা ছুঁয়ে যেন দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত সোনালি তটভূমি। আর সেই জল, স্থলের বিভেদরেখা মুছে দিয়ে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে প্রাণ সঁপে দেওয়া। দুইয়ে মিলে বিশ্বদরবারে অস্ট্রেলিয়ার প্রসিদ্ধি অনেক দিনই! আর অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের কেন্দ্রভূমি হলে যা হয়, তট-কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতেই হয় জনতার সুরক্ষার দিকে। তার জন্য চলে ডজন ডজন ড্রোনের সাহায্যে নজরবন্দি। এই দিক থেকেও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বে এক আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। কিন্তু এই সব ছাপিয়ে গিয়ে এ বার বিশ্বে এক নজির গড়ল অস্ট্রেলিয়া। নাম তুলে ফেলল পৃথিবীতে প্রথম ড্রোনের সাহায্যে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া মানুষ উদ্ধারের কাজে।

Swimmers-Rescue-By-Drone

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কুইন্সল্যান্ড সীমান্তের কাছের নিউ সাউথ ওয়েলসের লেনক্স হেড-এ সমুদ্রে সাঁতার কাটছিলেন দুই যুবা। সমুদ্র একটু উত্তাল হলেও তাঁরা পেশাদার সাঁতারু, অতএব মনে কোনো ভয়-ডর ছিল না। কিন্তু দেখতে দেখতে পরিস্থিতি একটু বেশিই উগ্র রূপ ধারণ করে। সমুদ্রের বুকে ঝাপট-মারা পাগল হাওয়া আর উত্তাল স্রোতের যুগলবন্দির মুখে অসহায় হয়ে পড়েন দুই যুবা।

Swimmers-Rescue-By-Drone

বিপদ দেখে তটে থাকা অন্যরা তাড়াতাড়ি খবর দেন কর্তৃপক্ষকে। “খবর পেয়েই আমরা ড্রোন ছাড়ি। সৌভাগ্যের বিষয়, ড্রোন ওই দুই ব্যক্তিকে সনাক্তও করে ফেলে চটপট। তার পর লাইফগার্ড ফেলে ওঁদের সহজেই উদ্ধার করা গিয়েছে”, জানিয়েছেন লাইফগার্ড সুপারভাইজার জে শ্রেইডেন। সঙ্গে এটাও জানাতে ভোলেননি- “সচরাচর এতটা তাড়াতাড়ি ড্রোন আমরা ছাড়তে পারি না। কিন্তু এ দিন ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল। ফলে মিনিট দুয়েকের মধ্যেই উদ্ধারকার্য সম্পন্ন হয়। এর চেয়ে সামান্য দেরি হলেও আমাদের আর কিছু করার থাকত না!”

যাই হোক, গোল্ড কোস্ট বুলেটিন নামে সংবাদপত্র, যারা খবরটি প্রথম ছাপে, জানিয়েছে যে উত্তাল সমুদ্রের লোনা জলে ভালো মতো নাকানি-চোবানি খেলেও ওই দুই সাঁতারু সুস্থই আছেন!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here