জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুনর্গঠন নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়াল পি-৫ গোষ্ঠীভুক্ত দেশ রাশিয়া

1
Modi putin and Imran
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বা পি-৫ গোষ্ঠীভুক্ত দেশ হিসাবে রাশিয়া প্রথম মৌখিক ভাবে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বিষয় হিসাবে স্বীকার করেছিল। মস্কো সিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণার ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এমন সমস্ত মতবিরোধী রয়েছে বিষয়গুলিকে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিল। এ বার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ স্পষ্টতই জানিয়ে দিল, ভারতের এই পদক্ষেপ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ যেন নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি না করে।

শুক্রবার রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “মস্কো প্রত্যাশা করেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদাগত বিষয়ে দিল্লির পরিবর্তনের কারণে ভারত ও পাকিস্তান এই অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোটেই বাড়িয়ে তুলবে না”।

রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “আমরা বর্তমান পরিস্থিতি থেকেই ধরে নিতে পারি যে, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি এবং নতুন দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার বিষয়টি ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। আমরা আশা করি যে জড়িত পক্ষগুলির সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাডা়বে না। ”।

অন্য দিকে, বেজিংয়ের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও ‘বন্ধু’ চিনকে আপাতত পাশে পাচ্ছে না পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা পরিষদেও জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা খারিজ করে দেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেইরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। এর আগেই একই ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।

ইতিমধ্য়েই জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্য়াহার এবং দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেয় পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রশাসন। এর পরই পাকিস্তানের এই সমস্ত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “চিন পাকিস্তানের প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ লক্ষ্য করেছে”। কিন্তু শুক্রবার পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বেজিং গিয়ে বৈঠকের পরেও চিন স্পষ্টত জানিয়ে দেয়, দ্বিপাক্ষিক এই জটিলতা মেটাতে হবে ভারত ও পাকিস্তানকেই।

একই ভাবে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক শুক্রবার জানায়, “রাশিয়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকে সমর্থন করে। আমরা আশা করি যে,১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি এবং ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণার বিধান অনুসারে দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মাধ্যমে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের সমাধান হবে”।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here