লন্ডন: ঝুলে পড়া চামড়ার এক অতিবৃদ্ধের মতো দেখতে ওদের। এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া মানুষের সবচেয়ে বয়স্ক পূর্বপুরুষ ওরাই। শুধু মানুষের নয়, আরও বহু প্রজাতির শুরুর কথা জানা যাচ্ছে ওদের কাছে থেকে। ৫৪ কোটি ৪০ লক্ষ বছরের ফসিলগুলো ‘ভারী চমৎকার ভাবেই সংরক্ষিত’ ছিল এতদিন, বলছেন বিজ্ঞানীরা। মধ্য চিন থেকে খুঁজে পাওয়া গেছে ওদের।

আনুবীক্ষণিক ওই সামুদ্রিক প্রাণীগুলিই বিবর্তনের পথে প্রথম ধাপ, যা থেকে পরে মাছ তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ।

ইউকে, চিন ও জার্মানির বিজ্ঞানীদের দলের এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়।

গবেষকরা বলছেন, ‘স্যাকোরিটাস’ নামে এই প্রাণীটি ‘ডেউটেরোসটোমস’ নামে একটি প্রজাতির সবচেয়ে প্রাচীন উদাহরণ। ওই ডেউটেরোসটোমস, এক বিশাল সংখ্যাক প্রজাতির প্রাণীর পূর্বপুরুষ, তার মধ্যে রয়েছে মেরুদণ্ডীরাও।

স্যাকোরিটাসের দৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার। মনে করা হচ্ছে, ওরা সমুদ্র গর্ভে বালির দানার মধ্যে থাকতো।

গবেষকরা ওই প্রাণীতে কোনো পায়ূছিদ্র খুঁজে পাননি। যার থেকে মনে করা হচ্ছে, খাদ্য গ্রহণ এবং বর্জ্য-ত্যাগ ওরা একই ছিদ্র দিয়ে করত।

Saccorhytus-fossil

খুব পাতলা এবং নমনীয় চামড়া ও পেশী দিয়ে ঢাকা থাকতো স্যাকোরিটাস। যা দেখে গবেষকরা মনে করছেন, পেশীর সংকোচন-প্রসারণের দ্বারা কিলবিল করে পাক খেয়ে এরা চলাচল করত।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, বাকি শরীরের তুলনায়, এর অত্যাধিক বড়ো আকারের মুখগহ্বর। খাবারের দানা বা অন্যান্য প্রাণীকে গিলে খেত বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।

এদের চেহারা ছিল শঙ্কু আকৃতির। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর ফলে এরা যে পরিমাণ জল গিলে নিত, তা বেরিয়ে যেতে পারতো। এই বৈশিষ্ট্য সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীন ধরনের ফুলকা বা কানকো-র নিদর্শন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here