syria war

ওয়েবডেস্ক: বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে সিরিয়া সেনার বোমাবর্ষণে এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে অসংখ্য শিশু রয়েছে। গোটা পরিস্থিতিকে ‘কল্পনার বাইরে’ বলা আখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসের কাছে পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলটিকে পুনরায় দখল করার জন্য রবিবার রাত থেকে বোমাবর্ষণ শুরু করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থনে এই বোমাবর্ষণ চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

সিরিয়ার এই ঘটনার জন্য বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সিরিয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের কোঅর্ডিনেটর পানস মৌমতিজ পূর্ব ঘৌটার পরিস্থিতিকে ‘কল্পনার বাইরে’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সিরিয়া সেনার এই বোমাবর্ষণে গোটা অঞ্চলে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

যদিও নিন্দার মুখে দাঁড়িয়ে সিরিয়া সেনার দাবি, “গোটা অঞ্চলকে জঙ্গিমুক্ত করতে এই বোমাবর্ষণ চালানো হচ্ছে।” এ দিকে পূর্ব ঘৌটায় বোমাবর্ষণ করে সিরিয়া সেনা এখন তুরস্ক সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সিরিয়া।

এ দিকে সিরিয়ার বোমাবর্ষণের হাত থেকে কোনো লুকোনোর জায়গা নেই বলে আপশোশ করেছেন পূর্ব ঘৌটার এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর এমন ভাবে বোমা পড়ছিল যেন মনে হচ্ছিল বৃষ্টি পড়ছে। কোথাও লুকোনোর জায়গা নেই। মহিলা এবং শিশুদের শুধু কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে।” বোমাবর্ষণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলটি ইসলামি সংগঠন জয়াশ-আল-ইসলামের দখলে রয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ২০১৩-তে বিদ্রোহীদের ওপরে রাসায়নিক আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরে সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণই সব থেকে ভয়াবহ। ওই অঞ্চলের অন্তত দশটি শহর এবং গ্রাম বোমার শিকার হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলের অন্তত ছ’টা হাসপাতাল এই বোমাবর্ষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত।

দুর্গতরা কোনো ভাবে বাঁচার চেষ্টা করলেও খাবারের অভাবে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক চিকিৎসক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন