slobodan praljak

ওয়েবডেস্ক: অভিযোগ ছিল, তিনি বড়ো নির্মম যুদ্ধ অপরাধী। যুদ্ধকে হাতিয়ার করে তাঁর পদক্ষেপ সব সময়েই ছিল মানবতা বিরোধী। বিশেষ করে ২০১৩ সালে বসনিয়ায় অগণিত মুসলমান হত্যা এবং মুসলমান নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছিল কাঠগড়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়কে প্রহসনে পরিণত করে কাঠগড়াতেই বিষ খেলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রাক্তন সহযোগী প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের কমান্ডার স্লোবোদান প্রালজাক।

বুধবার হেগ শহরে বসা যুগোস্লাভিয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইবুনাল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কাঠগড়াতেই বিষ পান করেন প্রালজাক। বিচারক যখন তাঁকে অপরাধী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের ঘোষণা করছেন, তখনই কোটের পকেট থেকে ছোটো একটি কাচের শিশি বের করেন তিনি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা শেষও করে ফেলেন অভিযুক্ত।

slobodan praljak

‘স্লোবোদান প্রালজাক যুদ্ধ অপরাধী নয়। অত্যন্ত অশ্রদ্ধার সঙ্গেই আমি এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছি’। ভিডিও ফুটেজে এই কথা চিৎকার করে বলতে শোনা যায় তাঁকে। তার পরেই মাথা একপাশে সামান্য হেলিয়ে তিলমাত্র দেরি না করে বিষ পান করেন প্রালজাক।

ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় আদালতে। বিচারক সঙ্গে সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। খবর দেওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও ঠিক কোন ধরনের বিষে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

প্রালজাকের এই আত্মহত্যায় শোক প্রকাশ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রোজ প্লেনকোভিক। ক্রোয়েশিয়া সরকার এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমার তরফ থেকে প্রালজাকের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই, জানিয়েছেন তিনি।

অবশ্য শুধুই প্রালজাক নয়, অভিযোগের কাঠগড়ায় ছিলেন তাঁর আরও পাঁচ সহকারী। প্রত্যেকেই বিচারে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে ১৫-২০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছেন। নিয়তিকে নিয়ন্ত্রণ করে একমাত্র প্রালজাকই এড়িয়ে গেলেন শাস্তির সম্ভাবনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here