japan

ওয়েবডেস্ক: বেশির ভাগ জায়গাতেই ছবিটা একই রকম। ঘরের মেঝেয় জমেছে পুরু ধুলোর স্তর। ধুলোয়, ঝুলে ভরে রয়েছে ঘরের আনাচ-কানাচ। আর সব ছাপিয়ে উঠে আসছে একটা দমবন্ধ করা দুর্গন্ধ। তা কোনো মতে সহ্য করে যখন পৌঁছানো যাচ্ছে শোওয়ার ঘরে, চোখে পড়ছে গলে-পচে যাওয়া মৃতদেহ। পোকারা ঘুরে বেড়াচ্ছে তার চার পাশে!

সমীক্ষা বলছে, জাপানে এই ছবি না কি হালফিলে চোখে পড়ছে আকছার। দেশের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি এখন একা বয়স্ক মানুষ। ফলে, তাঁরা তাঁদের বাড়িতে মরে পড়ে থাকলে খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই। যার ফলে, যত দিন না অবস্থা এবং দুর্গন্ধ পৌঁছে যাচ্ছে চরম সীমায়, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো হদিশ মিলছে না। আর যখন মিলছে, তখন ঘর পরিষ্কার করাটাই হয়ে উঠছে মস্ত এক সমস্যা।

ফলে, জাপানে এখন একের পর এক খুলছে একা বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর পরে তাঁদের ঘর পরিষ্কার করার কোম্পানি। সম্প্রতি প্রয়াত হিরোয়াকিকে কেন্দ্র করে এই কোম্পানি এবং তার সেবার কথা ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদমাধ্যমে।

জানা গিয়েছে, ৫৪ বছর বয়সি  হিরোয়াকি থাকতেন টোকিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে। কবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে খবর সঠিক রাখেন না কেউই। মাস কয়েকের ভাড়া বাকি পড়ায় যখন ওই অ্যাপার্টমেন্ট সংস্থার লোকজন ভাড়া আদায় করতে যান, তখনই তাঁরা আবিষ্কার করেন যে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এর পর, নেক্সট নামের ওই মৃত্যু পরবর্তী ঘর পরিষ্কার করার কোম্পানিকে খবর দেওয়া ছাড়া অন্য উপায় থাকে না।

যদিও নেক্সট-ই এ বিষয়ে একমাত্র কোম্পানি নয়। এ রকম অজস্র ছোটো ছোটো কোম্পানি এখন ছড়িয়ে পড়েছে জাপানে। এবং, শুধু এ রকম কোম্পানির জন্মই নয়। দেশের পরিস্থিতি দেখে বিমা সংস্থাগুলোও এ জাতীয় মৃত্যু পরবর্তী অ্যাপার্টমেন্ট মেরামতের খরচ দিচ্ছে। কোনো কোনো সংস্থা আবার আরও এক ধাপ এগিয়ে শেষকৃত্যের খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে অ্যাপার্টমেন্টের মালিককে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here